ইসলাম ধর্মে আসমানি কিতাব

 


ইসলাম ধর্মে আসমানি কিতাব

ইসলাম ধর্মে আসমানি কিতাব বলতে সেই সকল পবিত্র গ্রন্থকে বোঝায়, যা মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে পথপ্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন নবি রাসুলদের ওপর নাজিল করেছেন ঈমানের মৌলিক সাতটি বিষয়ের মধ্যে আসমানি কিতাবের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা অন্যতম

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী আসমানি কিতাব মোট ১০৪টি এর মধ্যে ৪টি হলো বড় এবং প্রসিদ্ধ কিতাব, আর বাকি ১০০টি ছোট কিতাব যেগুলোকে 'সহিফা' বলা হয়

প্রধান ৪টি আসমানি কিতাব:

. তাওরাত: এটি হজরত মুসা (.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে

. জাবুর: এটি হজরত দাউদ (.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে

. ইঞ্জিল: এটি হজরত ঈসা (.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে

. আল-কুরআন: এটি সর্বশেষ সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে


আসমানি কিতাবের গুরুত্ব বৈশিষ্ট্য:

·         পথপ্রদর্শন: মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বা সঠিক পথে পরিচালনার জন্য আল্লাহ এই কিতাবগুলো পাঠিয়েছেন

·         তাওহিদ: প্রতিটি কিতাবের মূল শিক্ষা ছিল এক আল্লাহর ইবাদত বা তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করা

·         সংরক্ষণ: পূর্ববর্তী কিতাবগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছিল এবং বর্তমানে সেগুলো বিকৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে সর্বশেষ কিতাব হিসেবে আল-কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত অপরিবর্তিত সংরক্ষিত থাকবে

·         পুরোনো কিতাবের মর্যাদা: একজন মুসলিম হিসেবে পূর্ববর্তী সকল আসমানি কিতাবের মূল পাণ্ডুলিপির ওপর বিশ্বাস রাখা বাধ্যতামূলক, যদিও বর্তমানে আমল করতে হয় কেবল আল-কুরআনের বিধান অনুযায়ী


ইসলাম ধর্মে 'সহিফা' বলতে সেই ছোট ছোট আসমানি কিতাব বা পুস্তিকাকে বোঝায়, যা মহান আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন নবিদের ওপর নাজিল করেছিলেন এগুলো মূলত ছোট আকারে বিশেষ কোনো জাতি বা সময়ের জন্য হিদায়াত হিসেবে পাঠানো হয়েছিল

ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মোট ১০৪টি আসমানি কিতাবের মধ্যে ১০০টি হলো সহিফা

প্রধান সহিফাগুলো যাদের ওপর নাজিল হয়েছিল:

ইসলামি পণ্ডিতদের মতে এবং বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী এই ১০০টি সহিফা চারজন নবির ওপর ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল:

. হজরত আদম (.): তাঁর ওপর ১০টি সহিফা নাজিল হয়

. হজরত শিশ (.): তাঁর ওপর ৫০টি সহিফা নাজিল হয়। (তিনি হজরত আদম .-এর পুত্র ছিলেন)

. হজরত ইদরিস (.): তাঁর ওপর ৩০টি সহিফা নাজিল হয়

. হজরত ইব্রাহিম (.): তাঁর ওপর ১০টি সহিফা নাজিল হয়


সহিফার মূল বৈশিষ্ট্য:

·         সংক্ষিপ্ত রূপ: এগুলো প্রধান ৪টি বড় কিতাবের মতো বিশাল বা বিস্তারিত ছিল না, বরং নির্দিষ্ট কিছু আদেশ-উপদেশ সংবলিত ছোট পুস্তিকা ছিল

·         তাওহিদের দাওয়াত: বড় কিতাবগুলোর মতো সহিফাগুলোর মূল বার্তাও ছিল এক আল্লাহর ইবাদত এবং সঠিক জীবনব্যবস্থার শিক্ষা দেওয়া

·         অসংরক্ষিত: কালক্রমে এই সহিফাগুলোর মূল পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেছে বা মানুষ সেগুলো পরিবর্তন করে ফেলেছে। বর্তমানে এগুলোর কোনোটিই তার আদি রূপে পৃথিবীতে বিদ্যমান নেই

পবিত্র কুরআনের সুরা আল-'লা-তে 'সহিফায়ে ইব্রাহিম' 'সহিফায়ে মুসা' (তাওরাতের আগের অংশ)-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে

তাওরাত: এটি হজরত মুসা (.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে

হজরত মুসা (.)-এর জীবনকাহিনি এবং বনি ইসরাইল জাতির ইতিহাস অত্যন্ত শিক্ষণীয় এবং অলৌকিক ঘটনায় ভরপুর ইসলামের ইতিহাসে মুসা (.)-এর নাম পবিত্র কুরআনে সবচেয়ে বেশিবার (প্রায় ১৩৬ বার) উল্লেখ করা হয়েছে

তাঁর জীবনের প্রধান অধ্যায়গুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

. জন্ম লালন-পালন

ফেরাউন যখন স্বপ্ন দেখল যে বনি ইসরাইল বংশের এক সন্তান তার রাজত্ব ধ্বংস করবে, তখন সে ওই বংশের সকল নবজাতক পুত্রসন্তানকে হত্যার নির্দেশ দেয়। আল্লাহর বিশেষ কুদরতে মুসা (.)-এর মা তাঁকে একটি সিন্দুকে ভরে নীল নদে ভাসিয়ে দেন এবং অলৌকিকভাবে তিনি ফেরাউনের প্রাসাদে তাঁর স্ত্রী আছিয়ার কাছে লালিত-পালিত হন

. নবুওয়াত লাভ

মিশর থেকে মাদইয়ানে হিজরতের দীর্ঘ ১০ বছর পর, ফেরার পথে পবিত্র তূর পর্বতে (সিনাই পর্বত) মুসা (.) আল্লাহর সাথে কথা বলেন এবং নবুওয়াত লাভ করেন। সেখানেই তাঁকে মোজেজা হিসেবে 'লাঠি' (যা সাপে পরিণত হতো) এবং 'বগলের শুভ্র আলো' প্রদান করা হয়

. ফেরাউনের সাথে মোকাবিলা নীল নদ পার হওয়া

মুসা (.) এবং তাঁর ভাই হারুন (.) ফেরাউনের কাছে গিয়ে তাওহিদের দাওয়াত দেন। ফেরাউন তা প্রত্যাখ্যান করলে আল্লাহ মুসা (.)-কে তাঁর অনুসারীদের নিয়ে মিশর ত্যাগের নির্দেশ দেন। ফেরাউন তার বিশাল বাহিনী যখন তাঁদের ধাওয়া করে, তখন আল্লাহর নির্দেশে মুসা (.) সাগরে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে নীল নদ ১২টি রাস্তায় বিভক্ত হয়ে যায় বনি ইসরাইলরা নিরাপদে পার হয়ে গেলেও ফেরাউন তার বাহিনী সাগরে ডুবে মারা যায়


. বনি ইসরাইল জাতির ইতিহাস অবাধ্যতা

বনি ইসরাইলরা মুক্তি পাওয়ার পরও বারবার আল্লাহর অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল:

  • গোবৎস পূজা: মুসা (.) যখন তূর পর্বতে তাওরাত আনতে যান, তখন সামেরি নামক এক ব্যক্তির প্ররোচনায় তারা বাছুরের পূজা শুরু করে
  • মান্না সালওয়া: মরুভূমিতে তাদের জন্য আকাশ থেকে বিশেষ খাবার (মান্না সালওয়া) নাজিল হতো, কিন্তু তারা তাতেও অসন্তুষ্ট ছিল
  • ৪০ বছরের বন্দিত্ব: পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিনে প্রবেশের অবাধ্যতা করায় আল্লাহ তাদের দীর্ঘ ৪০ বছর প্রান্তরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরার (তিহ্ ময়দান) শাস্তি দিয়েছিলেন

. বর্তমান প্রেক্ষাপট গুরুত্ব

মুসা (.)-এর জীবন থেকে ধৈর্যের এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়। তাঁর শরিয়ত বা বিধানগুলোই ছিল আসমানি কিতাব তাওরাত-এর মূল ভিত্তি

তাওরাত হলো মহান আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নাজিলকৃত চারটি প্রধান আসমানি কিতাবের মধ্যে প্রথমটি এটি বনি ইসরাইল জাতির হিদায়াতের জন্য নাজিল করা হয়েছিল

তাওরাত সম্পর্কে প্রধান কিছু তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

. কার ওপর নাজিল হয়েছে?

তাওরাত নাজিল হয়েছে রাসুল হজরত মুসা (.)-এর ওপর। সিনাই পর্বতে (তূর পর্বত) অবস্থানকালে আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই কিতাব দান করেন

. তাওরাতের মূল শিক্ষা

·         তাওহিদ: এক আল্লাহর ইবাদত এবং তাঁর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা

·         দশ আজ্ঞা (Ten Commandments): তাওরাতের অন্যতম প্রধান অংশ হলো ১০টি মৌলিক আদেশ, যা নৈতিক ধার্মিক জীবনের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত

·         শরিয়ত: বনি ইসরাইলদের জন্য হালাল-হারাম এবং জীবন পরিচালনার বিস্তারিত বিধান এতে বর্ণিত ছিল

·         ভবিষ্যদ্বাণী: তাওরাতে শেষ নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ তাঁর গুণাবলি বর্ণিত ছিল

আসমানি কিতাব সমূহের মধ্যে তাওরাত (Torah) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা মহান আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলের হেদায়েতের জন্য হজরত মুসা (.)-এর ওপর নাজিল করেছিলেন আপনি এর অধ্যায় মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন, যা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

. তাওরাতের মূল বিষয়বস্তু

তাওরাত মূলত বিধি-বিধান, শরিয়ত এবং তৌহিদের (একত্ববাদ) এক পূর্ণাঙ্গ সংকলন ছিল। এর প্রধান বিষয়গুলো হলো:

  • আল্লাহর একত্ববাদ: শিরক বা মূর্তিপূজা ত্যাগ করে এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত
  • দশ আজ্ঞা (Ten Commandments): এটি তাওরাতের সবচেয়ে পরিচিত অংশ, যা 'আলওয়াহ' বা পাথরের ফলকে মুসা (.)-কে দেওয়া হয়েছিল। এতে চুরি, হত্যা, ব্যভিচার মিথ্যা সাক্ষ্য ত্যাগের মতো মৌলিক মানবিক ধর্মীয় বিধান ছিল
  • হালাল-হারাম: খাবারের পবিত্রতা এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সামাজিক বিচারিক আইন
  • ভবিষ্যদ্বাণী: শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের সংবাদ এবং গুণাবলি তাওরাতে উল্লেখ ছিল

. তাওরাতের ৫টি প্রধান অধ্যায় (পুস্তক)

বর্তমানে প্রচলিত বাইবেলের (Old Testament) প্রথম পাঁচটি খণ্ডকে 'তাওরাত' বা 'Pentateuch' বলা হয়। যদিও মূল তাওরাত কালক্রমে পরিবর্তিত হয়েছে, তবে প্রচলিত খণ্ডগুলো হলো:

1.     পয়দায়েশ (Genesis): পৃথিবী সৃষ্টি, আদম (.)-এর ঘটনা এবং নুহ (.) ইব্রাহিম (.)-এর বংশধরের ইতিহাস

2.     হিজরত (Exodus): বনী ইসরাঈলের মিসর ত্যাগ, ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি এবং সিনাই পাহাড়ে মুসা (.)-এর আল্লাহর সাথে কথোপকথন

3.     লেবীয় (Leviticus): ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, কোরবানি এবং পবিত্রতা সম্পর্কিত কঠোর নিয়মকানুন

4.     শুমারি (Numbers): সিনাই মরুভূমিতে বনী ইসরাঈলের চল্লিশ বছরের ভ্রমণ এবং গোত্রভিত্তিক লোকসংখ্যা গণনা

5.     দ্বিতীয় বিবরণ (Deuteronomy): মুসা (.)-এর জীবনের শেষ সময়কার উপদেশ এবং পূর্ববর্তী আইনগুলোর পুনরালোচনা


. তাওরাত কুরআনের সম্পর্ক

পবিত্র কুরআন তাওরাতকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত 'আলো পথনির্দেশ' (নূর হুদা) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তবে কুরআন এও স্পষ্ট করে যে, পূর্ববর্তী জাতিগুলো তাদের কিতাবকে বিকৃত করে ফেলেছে, যার ফলে কুরআনকে 'মুহাইমিন' (পূর্ববর্তী কিতাবের রক্ষক সত্য-মিথ্যা যাচাইকারী) হিসেবে পাঠানো হয়েছে

. ভাষা

মূল তাওরাত কিতাবটি হিব্রু ভাষায় নাজিল হয়েছিল

. বর্তমান অবস্থা ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি

·         বিকৃতি: ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, ইহুদি পণ্ডিতরা সময়ের আবর্তে তাওরাতের মূল শিক্ষা বাণী পরিবর্তন বা বিকৃত করে ফেলেছে। বর্তমানের প্রচলিত 'ওল্ড টেস্টামেন্ট' বা 'তোরাহ' (Torah)-কে মুসলমানরা হুবহু আল্লাহর বাণী বলে গণ্য করে না

·         শ্রদ্ধা: একজন মুসলিম হিসেবে হজরত মুসা (.)-এর ওপর নাজিলকৃত 'মূল তাওরাত'-এর ওপর বিশ্বাস রাখা বাধ্যতামূলক

·         কুরআনের প্রাধান্য: আল-কুরআন নাজিল হওয়ার পর তাওরাতের কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে। এখন কেবল কুরআনের বিধানই অনুসরণীয়


একটি বিশেষ তথ্য: পবিত্র কুরআনে তাওরাতের উল্লেখ ১৮ বার এসেছে এবং একে "আলো পথনির্দেশক" (নূর হুদা) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে

 হজরত মুসা (.)-এর জীবন এবং বনি ইসরাইল জাতির ওপর আল্লাহর নেয়ামত অলৌকিক নিদর্শনগুলো পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণিত হয়েছে নিচে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:


. হজরত মুসা (.)-এর প্রধান মোজেজাসমূহ

আল্লাহ তাআলা মুসা (.)-কে নয়টি বিশেষ নিদর্শন (মোজেজা) দিয়েছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

  • লাঠি বা আসাহ (Staff): এটি ছিল মুসা (.)-এর সবচেয়ে বড় মোজেজা। আল্লাহর নির্দেশে লাঠিটি মাটিতে ফেললে তা একটি বিশাল অজগর সাপে পরিণত হতো। ফেরাউনের জাদুকরদের জাদুর মোকাবিলায় এই লাঠিটি তাদের সব অলৌকিক সাজসজ্জা গিলে ফেলেছিল
  • ইয়াদে বায়দা (Shining Hand): মুসা (.) যখন তাঁর হাত বগলের নিচে রেখে বের করতেন, তখন তা সূর্যের মতো উজ্জ্বল আলো বিকিরণ করত। এটি কোনো রোগ বা ধবল ছিল না, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নূর ছিল
  • সাগর দ্বিখণ্ডিত হওয়া: ফেরাউনের হাত থেকে বাঁচতে যখন বনি ইসরাইলরা লোহিত সাগরের তীরে এসে আটকা পড়ে, তখন মুসা (.) আল্লাহর নির্দেশে লাঠি দিয়ে সাগরে আঘাত করেন। এতে সাগরের পানি সরে গিয়ে ১২টি শুকনো রাস্তা তৈরি হয় এবং তাঁরা নিরাপদে পার হয়ে যান

. বনি ইসরাইলদের ওপর বিশেষ নেয়ামতসমূহ

মিশর থেকে পলায়নের পর যখন বনি ইসরাইলরা দীর্ঘ ৪০ বছর মরুভূমিতে (তিহ্ ময়দান) বন্দি ছিল, তখন আল্লাহ তাদের ওপর অসাধারণ কিছু নেয়ামত নাজিল করেন:

  • মান্না সালওয়া: কোনো চাষাবাদ ছাড়াই আল্লাহ তাদের জন্য আকাশ থেকে খাবার পাঠাতেন। 'মান্না' ছিল তুষারের মতো সাদা মধুর মতো মিষ্টি এক ধরনের খাদ্য, আর 'সালওয়া' ছিল সুস্বাদু পাখির মাংস (বটের পাখি সদৃশ)
  • মেঘের ছায়া: মরুভূমির প্রচণ্ড রোদে যখন তাদের কোনো আশ্রয় ছিল না, তখন আল্লাহ আকাশ থেকে বিশাল মেঘের সারি পাঠিয়ে তাদের ওপর সারাদিন শীতল ছায়া বজায় রাখতেন
  • ১২টি ঝরনাধারা: পাথর মরুভূমিতে পানির অভাবে যখন তারা হাহাকার করছিল, তখন মুসা (.) আল্লাহর নির্দেশে পাথরে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। ফলে সেই পাথর থেকে ১২টি ঝরনা প্রবাহিত হয়, যা বনি ইসরাইলদের ১২টি গোত্রের জন্য আলাদা আলাদা পানির উৎস ছিল

. বনি ইসরাইলদের অকৃতজ্ঞতা শিক্ষা

এতসব নেয়ামত পাওয়ার পরও বনি ইসরাইলরা বারবার অবাধ্য হয়েছে। যেমন:

  • তারা মান্না-সালওয়ার বদলে ডাল, পিঁয়াজ রসুনের মতো সাধারণ খাবার দাবি করেছিল
  • এক পর্যায়ে তারা বলেছিল, "যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে সশরীরে দেখতে পাচ্ছি, ততক্ষণ বিশ্বাস করব না।"
  • ফিলিস্তিনে জিহাদে যেতে অস্বীকার করে তারা বলেছিল— "তুমি আর তোমার খোদা গিয়ে যুদ্ধ করো, আমরা এখানে বসে থাকলাম।"

এই অবাধ্যতার কারণেই তাদের ৪০ বছর মরুভূমিতে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে হয়েছিল

বনি ইসরাইলদের ১২টি গোত্র এবং তাদের ওপর আসা ৯টি আজাব বা অলৌকিক শাস্তির ঘটনাগুলো ঈমানদারদের জন্য অনেক বড় শিক্ষা বহন করে নিচে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:


. বনি ইসরাইলদের ১২টি গোত্র (The 12 Tribes)

হজরত ইয়াকুব (.)-এর ১২ জন পুত্র ছিলেন। তাঁর অপর নাম ছিল 'ইসরাইল', আর তাঁর সন্তানদের বংশধররাই 'বনি ইসরাইল' নামে পরিচিত। মিশরে থাকাকালীন এবং পরবর্তীতে মরুভূমিতে ভ্রমণের সময় তারা ১২টি পৃথক গোত্রে বিভক্ত ছিল

প্রধান কিছু গোত্রের নাম: . ইয়াহুদা (এদের নামানুসারেই পরবর্তীকালে 'ইহুদি' নাম হয়) . লাভী (মুসা . হারুন . এই গোত্রের ছিলেন) . বিনয়ামিন (ইউসুফ .-এর আপন ছোট ভাইয়ের বংশধর) . রুবিন, . শামউন, . জাবুলুন, . ইশাখার, . দান, . গাদ, ১০. আশের, ১১. ইফরাইম এবং ১২. মানাচ্ছাহ (ইউসুফ .-এর দুই পুত্রের নামে এই দুটি গোত্র)

অলৌকিক ঝরনা: মরুভূমিতে পানির অভাব দেখা দিলে মুসা (.) পাথরে আঘাত করেন এবং সেখান থেকে ১২টি ঝরনা বের হয়, যাতে ১২টি গোত্র নিজেদের জন্য আলাদাভাবে পানি ব্যবহার করতে পারে এবং তাদের মধ্যে ঝগড়া না হয়


. ফেরাউন তার অনুসারীদের ওপর আসা ৯টি আজাব

বনি ইসরাইলদের মুক্তি না দেওয়া এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে ফেরাউনের জাতির ওপর পর্যায়ক্রমে ৯টি কঠিন পরীক্ষা বা আজাব এসেছিল। পবিত্র কুরআনে (সুরা আল-'রাফ) এগুলোর বর্ণনা রয়েছে:



দুর্ভিক্ষ (খরা)

টানা কয়েক বছর ফসলের ব্যাপক ঘাটতি এবং অনাবৃষ্টির মাধ্যমে তাদের সতর্ক করা হয়

ফল-ফসলের ক্ষতি

বাগান কৃষি জমির ফলন ধ্বংস হয়ে যায়, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেয়

প্লাবন (তুফান)

প্রচণ্ড বৃষ্টি বন্যার ফলে তাদের ঘরবাড়ি জনপদ তলিয়ে যায়

পঙ্গপাল

ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল এসে তাদের অবশিষ্ট সমস্ত ফসল সবুজ গাছপালা খেয়ে সাবাড় করে দেয়

উকুন বা পোকা

শস্যভাণ্ডার এবং মানুষের পোশাকে শরীরে উকুন বা ছোট পোকার উপদ্রব শুরু হয়, যা তাদের অতিষ্ঠ করে তোলে

ব্যাঙ

তাদের খাবার, বিছানা এবং ঘরের প্রতিটি কোণ ব্যাঙের আধিক্যে ভরে যায়

রক্ত

পান করার পানি, কুয়া এবং নদীর পানি রক্তে পরিণত হয়। তারা কোনোভাবেই স্বচ্ছ পানি ব্যবহার করতে পারছিল না

পঙ্গুত্ব বা ফোঁড়া

অনেক বর্ণনা মতে, তাদের শরীরে কঠিন চর্মরোগ বা যন্ত্রণাদায়ক ফোঁড়া দেখা দিয়েছিল

লোহিত সাগরে নিমজ্জন

এটি ছিল চূড়ান্ত আজাব, যার মাধ্যমে ফেরাউন তার অবাধ্য অনুসারীদের সমূলে ধ্বংস করা হয়


. দুর্ভিক্ষ অনাবৃষ্টি: দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ায় মিশরে প্রচণ্ড খাদ্য সংকট দেখা দেয়।

. ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি: বাগান ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে যায়।

. তুফান (প্লাবন): হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি ফসল ডুবে যায়।

. অঙ্গপাল (পঙ্গপাল): ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল এসে তাদের অবশিষ্ট সমস্ত সবুজ ফসল খেয়ে ফেলে।

. উকুন বা পোকা: মানুষের শরীরে কাপড়ে ক্ষুদ্র পোকা বা উকুনের আধিক্য ঘটে, যা তাদের অতিষ্ঠ করে তোলে।

. ব্যাঙ: বিছানা, খাবার সব জায়গায় ব্যাঙের উপদ্রব শুরু হয়। মানুষ ঘুমানোর জায়গাও পাচ্ছিল না। 

. রক্ত: হঠাৎ করে নীল নদসহ সব জলাশয়ের পানি রক্তে পরিণত হয়। তারা পানি পান করতে পারছিল না। 

. লাঠি (সাপ হওয়া): মুসা (.)-এর লাঠির অলৌকিক ক্ষমতা, যা ফেরাউনের জাদুকরদের পরাজিত করেছিল।

. উজ্জ্বল হাত (ইয়াদে বায়দা): মুসা (.)-এর হাত থেকে বের হওয়া নূরের ঝলকানি


একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা:

প্রতিবার আজাব আসার পর ফেরাউন মুসা (.)-কে অনুরোধ করত যেন তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করে আজাব সরিয়ে দেন। কিন্তু আজাব চলে গেলেই সে আবার তার পুরনো অবাধ্যতায় ফিরে যেত। শেষ পর্যন্ত তারা নীল নদে ডুবে ধ্বংস হয় এবং বনি ইসরাইলরা মুক্তি পায়

বনি ইসরাইলদের ইতিহাসে এই দুটি ঘটনাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আল্লাহর অশেষ দয়া কুদরতের নিদর্শন, আর অন্যটি মানুষের পথভ্রষ্ট হওয়ার এক চরম দৃষ্টান্ত নিচে দুটি ঘটনা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


. ১২টি ঝরনার অলৌকিক ঘটনা

মিশর থেকে পলায়নের পর বনি ইসরাইলরা যখন সিনাই মরুভূমির তপ্ত বালুকে পাথুরে প্রান্তরে (তিহ্ ময়দান) অবস্থান করছিল, তখন সেখানে পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। তৃষ্ণায় কাতর হয়ে তারা মুসা (.)-এর কাছে পানি চায়

·         আল্লাহর নির্দেশ: মুসা (.) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে আল্লাহ নির্দেশ দেন, "তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো।"

·         অলৌকিক প্রকাশ: মুসা (.) একটি বড় পাথরে লাঠি দিয়ে আঘাত করার সাথে সাথে সেখান থেকে ১২টি ঝরনা প্রবল বেগে প্রবাহিত হতে শুরু করে

·         ব্যবস্থাপনা: যেহেতু বনি ইসরাইলরা ১২টি গোত্রে বিভক্ত ছিল, তাই আল্লাহ প্রত্যেকের জন্য আলাদা ঝরনা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। প্রতিটি গোত্র জানত তাদের পানির উৎস কোনটি, ফলে তাদের মধ্যে কোনো বিশৃঙ্খলা বা ঝগড়া সৃষ্টি হয়নি। মরুভূমির সেই রুক্ষ পরিবেশে এটি ছিল আল্লাহর এক অসামান্য নেয়ামত


. সামেরি স্বর্ণের বাছুরের ঘটনা

এটি বনি ইসরাইলদের ইতিহাসের একটি কলঙ্কময় অধ্যায়। মুসা (.) যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে 'তাওরাত' কিতাব গ্রহণের জন্য ৪০ দিনের জন্য তূর পাহাড়ে যান, তখন তাঁর অনুপস্থিতিতে জাতি পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে

·         সামেরির চক্রান্ত: সামেরি নামক এক ধূর্ত ব্যক্তি বনি ইসরাইলদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি করে। সে মানুষের কাছ থেকে অলঙ্কার সোনা সংগ্রহ করে তা গলিয়ে একটি বাছুরের মূর্তি তৈরি করে

·         অলৌকিক ধোঁকা: সামেরি দাবি করেছিল যে, মুসা (.) যখন ফেরাউনের হাত থেকে বাঁচার জন্য সাগর পার হচ্ছিলেন, তখন জিব্রাইল (.) যে ঘোড়ায় চড়ে এসেছিলেন, সেই ঘোড়ার খুরের নিচের মাটি সে সংগ্রহ করেছিল। সেই মাটি যখন সে বাছুরের মূর্তির ভেতরে ছড়িয়ে দিল, তখন মূর্তিটি জীবন্ত বাছুরের মতো 'হাম্বা হাম্বা' শব্দ করতে শুরু করল

·         পথভ্রষ্টতা: সামেরি মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হলো যে, "এটিই তোমাদের মুসার ইলাহ (উপাস্য), যা মুসা ভুলে গেছে।" হারুন (.) তাদের বারবার বাধা দিলেও তারা শোনেনি এবং এই বাছুর পূজায় লিপ্ত হয়

·         মুসা (.)-এর প্রত্যাবর্তন: ৪০ দিন পর তাওরাত নিয়ে ফিরে এসে মুসা (.) এই শিরক দেখে অত্যন্ত রাগান্বিত হন। তিনি সামেরিকে বহিষ্কার করেন এবং সেই স্বর্ণের বাছুরটি আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে সাগরে ভাসিয়ে দেন। যারা এই শিরকে লিপ্ত হয়েছিল, তাদের কঠোর তওবা শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়েছিল


শিক্ষণীয় দিক:

এই ঘটনাগুলো আমাদের শেখায় যে, মানুষ আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক নেয়ামত পেলেও কত দ্রুত অকৃতজ্ঞ পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে পারে। সামেরির ঘটনাটি বিশেষ করে আমাদের 'শিরক' বা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করার ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে

জাবুর: এটি হজরত দাউদ (.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে


হজরত দাউদ (.)-এর ওপর নাজিলকৃত আসমানি কিতাব জাবুর সম্পর্কে আপনি জানতে চেয়েছেন এটি ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী প্রধান চারটি আসমানি কিতাবের একটি

জাবুর শরিফ এবং হজরত দাউদ (.)-এর সেই সময়ের প্রেক্ষাপট নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

. দাউদ (.) জাবুর

আল্লাহ তাআলা হজরত দাউদ (.)-কে এই কিতাব প্রদান করেছিলেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

"এবং আমি দাউদকে জাবুর দান করেছি।" (সূরা নিসা, আয়াত: ১৬৩)

. কিতাবের বৈশিষ্ট্য

জাবুর মূলত মহান আল্লাহর প্রশংসা, তসবিহ (মহিমা ঘোষণা) এবং প্রার্থনায় ভরপুর একটি কিতাব ছিল। এতে সাধারণত নতুন কোনো শরিয়ত বা আইন ছিল না; বরং দাউদ (.) মুসা (.)-এর আনীত শরিয়ত (তাওরাত) অনুসরণ করতেন এবং জাবুরের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত জিকির করতেন

. দাউদ (.)-এর সুমধুর কণ্ঠ

বলা হয়, হজরত দাউদ (.) যখন অত্যন্ত সুমধুর কণ্ঠে জাবুর তিলাওয়াত করতেন, তখন বনের পশুপাখি এবং পাহাড়-পর্বতও তাঁর সাথে আল্লাহর প্রশংসায় শামিল হতো। তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য ছিল এক অনন্য মুজিজা (অলৌকিক ক্ষমতা)

. বর্তমান অবস্থা

মুসলিম ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, তাওরাত ইঞ্জিলের মতো জাবুরও সময়ের আবর্তে মানুষ পরিবর্তন বা বিকৃত করে ফেলেছে। বর্তমানে বাইবেলের সামস’ (Psalms) বাদাউদের গীতঅংশটিকে জাবুরের অবশিষ্টাংশ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে তা হুবহু আদি জাবুর নয়

হজরত দাউদ (.)-এর সেই অলৌকিক কণ্ঠস্বর এবং জাবুর তিলাওয়াতের সময় প্রকৃতি প্রাণীকুলের ওপর তার প্রভাবের ঘটনাটি সত্যিই বিস্ময়কর ইসলামি ইতিহাস বর্ণনা অনুযায়ী, এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে দেওয়া এক বিশেষ মুজিজা বা অলৌকিক ক্ষমতা

ঘটনাটি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

. দাউদ (.)-এর সুমধুর কণ্ঠ ('লাহনে দাউদি')

আল্লাহ তাআলা দাউদ (.)-কে এমন এক সুমধুর কণ্ঠ দান করেছিলেন, যা মানব ইতিহাসে বিরল। তাঁর এই কণ্ঠস্বরকে লাহনে দাউদি বলা হয়। তিনি যখন জাবুর তিলাওয়াত করতেন, তখন সেই সুরের মূর্ছনায় এক অভাবনীয় পরিবেশ তৈরি হতো

. পাহাড় জড়পদার্থের তসবিহ পাঠ

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন যে, দাউদ (.) যখন আল্লাহর প্রশংসা বা তসবিহ পাঠ করতেন, তখন বিশাল বিশাল পাহাড়গুলোও তাঁর সাথে সেই তসবিহতে যোগ দিত। কুরআনের ভাষায়:

"আমি পর্বতমালাকে তার অনুগামী করে দিয়েছিলাম, তারা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করত।" (সূরা সোয়াদ, আয়াত: ১৮) অর্থাৎ পাহাড়গুলো শুধু নীরব শ্রোতা ছিল না, বরং আল্লাহর কুদরতে সেগুলো দাউদ (.)-এর তিলাওয়াতের প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠত

. পাখিদের আসমানে থমকে যাওয়া

দাউদ (.) যখন জাবুর পাঠ শুরু করতেন, তখন আকাশের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া পাখিরা তাঁর কণ্ঠ শুনে বিমোহিত হয়ে ডানা ঝাপটানো বন্ধ করে দিত। তারা দলে দলে তাঁর মাথার ওপর ছায়ার মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত এবং তাঁর সাথে তসবিহ পাঠে মশগুল হতো

·         বাতাস স্থির হয়ে যাওয়া: অনেক বর্ণনায় পাওয়া যায়, তাঁর তিলাওয়াতের সময় এমনকি বহমান বাতাসও শান্ত হয়ে যেত যাতে তাঁর পবিত্র সুর কোনো বাধা না পায়

. অসুস্থদের আরোগ্য প্রাণীকুলের অবস্থা

কথিত আছে যে, তাঁর তিলাওয়াত শোনার জন্য বনের হিংস্র পশুরাও নিজেদের শিকার করা ভুলে গিয়ে তাঁর পাশে এসে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। এমনকি অনেকে তাঁর তিলাওয়াতের আধ্যাত্মিক প্রভাবে এতটাই বিমোহিত হতো যে, অসুস্থরা সুস্থতা অনুভব করত

. দাউদ (.)-এর বিনয়

এত বিশাল মুজিজা বা অলৌকিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দাউদ (.) ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। তিনি সারারাত ইবাদত করতেন এবং একদিন অন্তর একদিন রোজা রাখতেন (যাকেসওমে দাউদিবলা হয়) তাঁর এই তিলাওয়াত ছিল মূলত মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ

আসমানি কিতাব জাবুর-এর অধ্যায় এবং এর মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো এটি মূলত আধ্যাত্মিকতা, আল্লাহর প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতায় ভরপুর একটি কিতাব


. জাবুর-এর অধ্যায় বা বিভাজন

বর্তমানে প্রচলিত সামস (Psalms) বা দাউদের গীতকে জাবুরের অবশিষ্টাংশ ধরা হলে, এতে মোট ১৫০টি অধ্যায় বা 'গীত' (Psalm) রয়েছে। এই অধ্যায়গুলোকে প্রধানত ৫টি খণ্ডে বিভক্ত করা হয়:

·         প্রথম খণ্ড: থেকে ৪১ নম্বর অধ্যায়

·         দ্বিতীয় খণ্ড: ৪২ থেকে ৭২ নম্বর অধ্যায়

·         তৃতীয় খণ্ড: ৭৩ থেকে ৮৯ নম্বর অধ্যায়

·         চতুর্থ খণ্ড: ৯০ থেকে ১০৬ নম্বর অধ্যায়

·         পঞ্চম খণ্ড: ১০৭ থেকে ১৫০ নম্বর অধ্যায়


. জাবুরের মূল বিষয়বস্তু (Main Themes)

জাবুর শরিফে কোনো নতুন শরিয়ত বা আইনি বিধান ছিল না (আইন ছিল তাওরাত কিতাবে) জাবুরের মূল বিষয়বস্তু ছিল মূলত আল্লাহর মহিমা আধ্যাত্মিকতা এর প্রধান দিকগুলো হলো:

. আল্লাহর প্রশংসা তসবিহ (Praise and Worship)

জাবুরের অধিকাংশ জুড়ে রয়েছে মহান আল্লাহর গুণগান। সৃষ্টিজগতের বিশালতা, আকাশ, পাহাড় এবং প্রাণীকুলের মাধ্যমে আল্লাহর কুদরত প্রকাশ করা হয়েছে। দাউদ (.) তাঁর সুমধুর কণ্ঠে এই প্রশংসাগুলো গাইতেন

. মোনাজাত ক্ষমা প্রার্থনা (Supplication and Repentance)

মানুষ হিসেবে নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং কোনো ভুল হয়ে গেলে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা চাওয়ার আকুতি জাবুরের অন্যতম মূল সুর। দাউদ (.)-এর কান্নামাখা তওবা অনুশোচনা এখানে ফুটে উঠেছে

. আল্লাহর ওপর ভরসা (Trust in God)

বিপদ-আপদে বা শত্রুর হাত থেকে বাঁচার জন্য একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহই মুমিনদের জন্য প্রকৃত আশ্রয়স্থল

. আখিরাত ন্যায়বিচার

পৃথিবীর জীবনে জালেমদের দম্ভ এবং শেষ পর্যন্ত সত্যের জয়ের কথা এখানে বারবার বলা হয়েছে। আল্লাহর ন্যায়বিচার এবং পরকালের পুরস্কার সম্পর্কেও এতে ইঙ্গিত রয়েছে

. নসিহত বা উপদেশ

মানুষের চারিত্রিক উন্নয়ন, বিনয় এবং তাকওয়া (খোদাভীতি) অর্জনের জন্য এতে অসংখ্য উপদেশমূলক কথা বর্ণিত হয়েছে


একটি বিশেষ তথ্য: পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে যে, জাবুরে আল্লাহ লিখে দিয়েছিলেন"পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে আমার সৎকর্মশীল বান্দারা।" (সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৫)

ইঞ্জিল: এটি হজরত ঈসা (.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে


আসমানি কিতাবসমূহের মধ্যে ইঞ্জিল শরিফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান দখল করে আছে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হজরত ঈসা (.)-এর ওপর নাজিল হয়েছিল আপনি এর অধ্যায় এবং মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন, নিচে তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

ইঞ্জিল-এর মূল উদ্দেশ্য বিষয়বস্তু

ইঞ্জিল শব্দের অর্থ হলো 'সুসংবাদ' (Good News) এটি মূলত বনী ইসরাঈলদের সঠিক পথ দেখানোর জন্য এবং পূর্ববর্তী কিতাব 'তাওরাত'-এর অনেক বিধিবিধানকে সহজ সত্যায়ন করার জন্য নাজিল হয়েছিল। এর মূল বিষয়বস্তুগুলো ছিল নিম্নরূপ:

1.     একত্ববাদ (তাওহীদ): আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দেওয়া এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার নির্দেশ

2.     পরকাল বিচার দিবস: কিয়ামত, জান্নাত এবং জাহান্নামের বর্ণনা দিয়ে মানুষকে সতর্ক করা

3.     সদাচরণ নৈতিকতা: ক্ষমা, নম্রতা, আত্মত্যাগ এবং অসহায় মানুষের সেবা করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া

4.     শরিয়তের সংস্কার: তাওরাতের কিছু কঠিন বিধানকে আল্লাহর নির্দেশে সহজ করে দেওয়া

5.     শেষ নবীর সুসংবাদ: ইঞ্জিলের একটি অন্যতম মূল বিষয় ছিল শেষ জামানার নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী বা সুসংবাদ প্রদান করা


ইঞ্জিলের অধ্যায় বা গঠন (বর্তমান প্রেক্ষাপট)

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, আদি ইঞ্জিল ছিল আল্লাহর বাণী যা ঈসা (.)-এর হৃদয়ে এবং মুখে জারি হয়েছিল। তবে সেই আদি অবিকৃত ইঞ্জিল এখন আর পৃথিবীতে সংরক্ষিত নেই। বর্তমানে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে যে 'নিউ টেস্টামেন্ট' বা নতুন নিয়ম আছে, তাকেই সাধারণত ইঞ্জিল বলা হয়। এর প্রধান চারটি ভাগ বা অধ্যায় (Gospels) হলো:

  • মথি (Matthew): এতে ঈসা (.)-এর বংশতালিকা এবং তাঁর শিক্ষার বিস্তারিত বর্ণনা আছে
  • মার্ক (Mark): এটি সংক্ষিপ্ত এবং এতে ঈসা (.)-এর অলৌকিক কাজগুলোর ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে
  • লুক (Luke): এটি অত্যন্ত বিস্তারিত এবং এতে ঈসা (.)-এর জীবনের নানা ঘটনা সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো
  • যোহন (John): এতে ঈসা (.)-এর আধ্যাত্মিক শিক্ষা এবং তাঁর জীবনের শেষ সময়ের ঘটনাগুলো বর্ণিত হয়েছে

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মুসলিম গবেষকদের মতে, আদি ইঞ্জিলের আধ্যাত্মিক নৈতিক নির্যাস এই বইগুলোতে কিছুটা থাকলেও, অনুবাদের পরিবর্তন এবং মানুষের হস্তক্ষেপের কারণে মূল ইঞ্জিল হারিয়ে গেছে। এর পরিবর্তে এখনকার ইঞ্জিলগুলোতে ঈসা (.)-এর জীবনী এবং সাহাবীদের চিঠিপত্র বেশি স্থান পেয়েছে

ইঞ্জিল হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত চারখানি প্রধান আসমানি কিতাবের মধ্যে অন্যতম, যা হজরত ঈসা (.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল 'ইঞ্জিল' শব্দটি গ্রিক শব্দ 'ইভানজেলিয়ন' (Evangelion) থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো 'সুসংবাদ'

নিচে ইঞ্জিল শরিফ এবং এর মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

. ইঞ্জিল নাযিলের প্রেক্ষাপট

হজরত মুসা (.)-এর পর বনী ইসরাঈলরা যখন আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল এবং তাওরাতের বিধানগুলোকে নিজেদের স্বার্থে পরিবর্তন করতে শুরু করেছিল, তখন আল্লাহ তাআলা হজরত ঈসা (.)-কে পাঠান। তাঁকে সত্যায়নকারী হিসেবে এবং তাওরাতের কিছু কঠিন বিধানকে সহজ করার জন্য ইঞ্জিল প্রদান করা হয়

. মূল বিষয়বস্তু (Core Themes)

ইঞ্জিল শরিফের মূল দাওয়াত ছিল অত্যন্ত আধ্যাত্মিক এবং নীতিধর্মী। এর প্রধান বিষয়গুলো ছিল:

·         তাওহীদ বা একত্ববাদ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেইএই চিরন্তন সত্যের প্রচার

·         তাজকিয়া বা আত্মশুদ্ধি: বাহ্যিক ইবাদতের চেয়ে হৃদয়ের পবিত্রতা, বিনয় এবং আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসার ওপর জোর দেওয়া

·         আখিরাত বিচার দিবস: পরকাল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং জান্নাত-জাহান্নামের বর্ণনা

·         ক্ষমা অহিংসা: শত্রুকে ক্ষমা করা এবং মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শনের শিক্ষা

·         মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন সংবাদ: ইঞ্জিলের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ দেওয়া (যাকে ইঞ্জিলে 'পারাক্লিত' বা প্রশংসিত বলা হয়েছে)

. বর্তমান অবস্থা মুসলিম বিশ্বাস

মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মূল ইঞ্জিল ছিল আল্লাহর কালাম বা বাণী যা সরাসরি ঈসা (.)-এর ওপর নাযিল হয়েছিল। কিন্তু ঐতিহাসিক কারণে সেই আদি অবিকৃত ইঞ্জিলটি বর্তমানে বিলুপ্ত। বর্তমানে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে যে 'নিউ টেস্টামেন্ট' (New Testament) বা 'নতুন নিয়ম' রয়েছে, তাকেই সাধারণভাবে ইঞ্জিল বলা হয়। এর মধ্যে প্রধান চারটি সংস্করণ (Gospels) হলো:

·         মথি (Matthew)

·         মার্ক (Mark)

·         লুক (Luke)

·         যোহন (John)

তবে ইসলামি গবেষকদের মতে, এই বইগুলো মূলত ঈসা (.)-এর জীবনী এবং তাঁর শিষ্যদের বর্ণনার সংকলন, যা পরবর্তী সময়ে সংকলিত অনুবাদ করা হয়েছে

হজরত ঈসা (.)-এর সেই বিস্ময়কর জন্মের ঘটনা এবং তাঁর অলৌকিক মুজিজাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই কুমারী মাতা মারিয়াম (.)-এর গর্ভে তাঁর জন্ম থেকে শুরু করে দোলনায় থাকা অবস্থায় কথা বলাএই প্রতিটি ঘটনাই ঈমানের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক

বিশেষ করে তাঁর এই মুজিজাগুলো সম্পর্কে আপনার বর্ণনা শুনতে চাই:

·         পিতা ছাড়া জন্ম: বিবি মারিয়াম (.) যখন ফেরেশতার মাধ্যমে এই সুসংবাদ পেলেন এবং সমাজ যখন তাঁকে প্রশ্নবিদ্ধ করল, তখন নবজাতক ঈসা (.) কীভাবে দোলনা থেকে কথা বলে তাঁর মায়ের পবিত্রতা প্রমাণ করেছিলেন?

 

হজরত ঈসা (.)-এর জন্ম এবং তাঁর শৈশবের এই অলৌকিক ঘটনাটি মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এটি কেবল একটি জন্মকাহিনী নয়, বরং আল্লাহর অসীম কুদরতের এক জীবন্ত প্রমাণ নিচে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:

. ফেরেশতা জিবরাইল (.)-এর আগমন সুসংবাদ

বিবি মারিয়াম (.) যখন বায়তুল মুকাদ্দাসের পূর্ব দিকে নির্জনে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন ছিলেন, তখন হঠাৎ মানুষের বেশে তাঁর সামনে ফেরেশতা জিবরাইল (.) আবির্ভূত হলেন। বিবি মারিয়াম (.) প্রথমে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু জিবরাইল (.) তাঁকে অভয় দিয়ে বললেন:

"আমি তো কেবল তোমার পালনকর্তার প্রেরিত দূত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করে যাই।" (সূরা মারিয়াম, আয়াত: ১৯)

বিবি মারিয়াম (.) অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, কোনো পুরুষ তাঁকে স্পর্শ না করা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁর সন্তান হবে? উত্তরে জিবরাইল (.) জানালেন যে, এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ এবং তিনি একে মানুষের জন্য একটি 'নিদর্শন' করতে চান

. জন্ম একাকিত্ব

গর্ভধারণের পর বিবি মারিয়াম (.) লোকলজ্জার ভয়ে লোকালয় থেকে দূরে এক নির্জন স্থানে চলে গেলেন। প্রসব বেদনা শুরু হলে তিনি একটি খর্জুর (খেজুর) গাছের নিচে আশ্রয় নিলেন। সেই কঠিন সময়ে তিনি অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে অলৌকিক উপায়ে খাদ্য (খেজুর) পানীয় (ঝরনা) দিয়ে সাহায্য করা হয়

. সমাজে প্রত্যাবর্তন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া

হজরত ঈসা (.) ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর বিবি মারিয়াম (.) তাঁকে নিয়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এলেন। একটি কুমারী মেয়ের কোলে সন্তান দেখে লোকেরা কঠোর সমালোচনা শুরু করল। তারা বলতে লাগল: "হে মারিয়াম! তুমি তো এক অদ্ভুত (পাপের) কাজ করে বসেছ! তোমার পিতা তো মন্দ লোক ছিলেন না এবং তোমার মাতাও তো ব্যভিচারিণী ছিলেন না!"

বিবি মারিয়াম (.) আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু শিশুর দিকে ইশারা করলেন (কারণ আল্লাহ তাঁকে আগে থেকেই 'রোজা' বা মৌনতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছিলেন)

. দোলনা থেকে নবজাতকের বক্তব্য

লোকেরা উপহাস করে বলতে লাগল, "আমরা দোলনার শিশুর সাথে কীভাবে কথা বলব?" ঠিক সেই মুহূর্তে সবাইকে অবাক করে দিয়ে নবজাতক ঈসা (.) কথা বলে উঠলেন। তিনি বললেন:

"আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন।" (সূরা মারিয়াম, আয়াত: ৩০)

তিনি আরও বললেন যে, আল্লাহ তাঁকে তাঁর মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি কোনো উদ্ধত বা হতভাগ্য নন। দোলনা থেকে এই অলৌকিক বক্তব্য শুনে উপস্থিত সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল। এই একটি ঘটনাই বিবি মারিয়াম (.)-এর সতীত্ব পবিত্রতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট ছিল


ঈসা (.)-এর জীবনের শুরুটাই ছিল এমন এক অলৌকিকতা দিয়ে, যা পরবর্তীকালে তাঁর নবুওয়াতের পথকে প্রশস্ত করেছিল

 

·         মৃতকে জীবিত করা: আল্লাহর হুকুমে তিনি কীভাবে মৃত মানুষকে পুনরায় জীবন দান করতেন?

 

হজরত ঈসা (.)-কে আল্লাহ তাআলা যে কয়টি বিশেষ মুজিজা বা অলৌকিক ক্ষমতা দিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম এবং সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল মৃত মানুষকে জীবিত করা তৎকালীন সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান দর্শনের বেশ চর্চা ছিল, তাই আল্লাহ তাঁকে এমন কিছু ক্ষমতা দিয়েছিলেন যা মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞানের ঊর্ধ্বে

নিচে আল্লাহর হুকুমে তাঁর এই বিস্ময়কর মুজিজাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:


. 'বি-ইজনিল্লাহ' বা আল্লাহর হুকুমে জীবনদান

পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ঈসা (.) যখনই কোনো মৃতকে জীবিত করতেন, তা নিজের ক্ষমতায় নয় বরং আল্লাহর নির্দেশে হুকুমে করতেন। তিনি মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বা লাশের সামনে গিয়ে বলতেন, "কুম বি-ইজনিল্লাহ" (অর্থাৎ: আল্লাহর হুকুমে দাঁড়িয়ে যাও) এরপর মৃত ব্যক্তি জীবিত হয়ে কথা বলত

. ঐতিহাসিক কিছু উদাহরণ

ইসলামি ইতিহাস তাফসির গ্রন্থগুলোতে ঈসা (.)-এর মাধ্যমে জীবিত হওয়া চারজন ব্যক্তির ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়:

  • সাম বিন নূহ (.): বর্ণিত আছে যে, একবার লোকেরা তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং অনেক প্রাচীন কোনো মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে বলে। তখন তিনি হজরত নূহ (.)-এর পুত্র সাম-এর কবরের কাছে যান এবং দোয়া করেন। দীর্ঘ কয়েক হাজার বছর পর সাম বিন নূহ (.) কবর থেকে উঠে দাঁড়ান এবং তাঁর সাথে কথা বলেন
  • এক বৃদ্ধার একমাত্র পুত্র: জনশ্রুতি আছে, এক বৃদ্ধার একমাত্র সন্তান মারা গেলে সেই শোকাতুর মায়ের করুণ অবস্থায় ঈসা (.) আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। ছেলেটি জানাজার খাট থেকে জীবিত হয়ে উঠে বসে এবং বাড়িতে ফিরে যায়
  • এক ধনী ব্যক্তির কন্যা: এক ব্যক্তি তার মৃত কন্যাকে জীবিত করার অনুরোধ করলে ঈসা (.) সেখানে গিয়ে দোয়া করেন এবং মেয়েটি অলৌকিকভাবে বেঁচে ওঠে
  • তাঁর এক বন্ধু (আজার): তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু মারা যাওয়ার কয়েকদিন পর তিনি তাঁর কবরের কাছে গিয়ে তাঁকে ডাক দেন, এবং সে জীবিত হয়ে বেরিয়ে আসে

. উদ্দেশ্য কী ছিল?

এই অলৌকিক ঘটনার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুটি:

1.     নবুওয়াতের প্রমাণ: বনী ইসরাঈলদের এটা বুঝিয়ে দেওয়া যে, তিনি সত্য নবী এবং আল্লাহ তাঁকে পাঠিয়েছেন

2.     পুনরুত্থানে বিশ্বাস: মানুষকে এটা দেখানো যে, আল্লাহ হাশরের ময়দানে যেভাবে মৃত মানুষকে পুনরায় জীবিত করবেন, তা অসম্ভব কিছু নয়


. জন্মান্ধ কুষ্ঠরোগীদের আরোগ্য দান

মৃতকে জীবিত করার পাশাপাশি তিনি আরও কিছু চিকিৎসা-সংক্রান্ত অলৌকিক কাজ করতেন:

  • জন্মান্ধকে দৃষ্টিদান: যারা জন্ম থেকেই অন্ধ ছিল, ঈসা (.) তাদের চোখে হাত বুলিয়ে দিলে তারা তৎক্ষণাৎ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেত
  • কুষ্ঠরোগী (Leper) সুস্থ করা: সেই সময়ে কুষ্ঠরোগ ছিল এক আতঙ্কের নাম। তিনি তাঁর পবিত্র হাতের স্পর্শে কুষ্ঠরোগীদের চিরতরে সুস্থ করে দিতেন

"আমি জন্মান্ধ শ্বেতী রোগীকে নিরাময় করি এবং আল্লাহর হুকুমে মৃতকে জীবিত করি।" (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৪৯)


ঈসা (.)-এর এই অলৌকিক ক্ষমতাগুলো দেখে হাজার হাজার মানুষ ঈমান এনেছিল, আবার অনেকে একে 'জাদু' বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল

 

·         অসুস্থদের আরোগ্য: কুষ্ঠরোগী এবং জন্মান্ধদের তিনি কীভাবে স্পর্শের মাধ্যমে সুস্থ করে তুলতেন?

 

হজরত ঈসা (.)-এর জীবনে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য অলৌকিক নিদর্শন বা মুজিজা দান করেছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি বনী ইসরাঈলদের কাছে সত্যের দাওয়াত পৌঁছে দিতেন সেই সময়ের চিকিৎসাবিজ্ঞান বেশ উন্নত হলেও কিছু রোগ ছিল তৎকালীন চিকিৎসকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে ঈসা (.) আল্লাহর হুকুমে সেই অসাধ্যগুলোই সাধন করে দেখাতেন

আপনার কৌতুহল অনুযায়ী তাঁর আরোগ্য দান করার অলৌকিক ক্ষমতাগুলো নিচে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো:


. জন্মান্ধকে দৃষ্টিদান (Healing the Blind)

তৎকালীন সময়ে যারা জন্মগতভাবে অন্ধ ছিল, তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো চিকিৎসা মানুষের জানা ছিল না। হজরত ঈসা (.) যখন কোনো জন্মান্ধ ব্যক্তির চোখের ওপর হাত বুলিয়ে দিতেন বা স্পর্শ করতেন, তখন আল্লাহর নির্দেশে মুহূর্তের মধ্যেই সেই ব্যক্তি পৃথিবী দেখার আলো ফিরে পেত। এটি কোনো জাদু ছিল না, বরং ছিল সরাসরি আল্লাহর কুদরত

. কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করা (Healing the Leper)

সে যুগে কুষ্ঠরোগ (Leprosy) ছিল এক ভয়াবহ অভিশপ্ত ব্যাধি। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হতো। ঈসা (.)-এর অন্যতম বড় মুজিজা ছিল এই যে, তিনি যখন কোনো কুষ্ঠরোগীর দেহে হাত রাখতেন, তখন তার শরীরের ক্ষত এবং সাদা দাগগুলো নিমেষেই মুছে গিয়ে চামড়া স্বাভাবিক উজ্জ্বল হয়ে যেত

. অলৌকিক স্পর্শের রহস্য

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঈসা (.)-এর জবানিতে ইরশাদ করেছেন:

"আমি আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধ কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করি..." (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৪৯)

এখানে লক্ষণীয় যে, ঈসা (.) প্রতিবারই বলতেন, এই ক্ষমতা তাঁর নিজের নয়, বরং আল্লাহর হুকুমে (Bi-idhnillah) ঘটছে। তিনি হাত দিয়ে স্পর্শ করা মাত্রই অসুস্থ অঙ্গটি পুনর্গঠিত হয়ে যেত, যা দেখে মানুষ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেত

. কেন এই মুজিজাগুলো দেওয়া হয়েছিল?

সেই সময়ে বনী ইসরাঈলদের মধ্যে একদল মানুষ ছিল যারা ছিল চরম বস্তুবাদী। তারা চোখে না দেখলে কোনো কিছু বিশ্বাস করতে চাইত না। আবার ইহুদি পণ্ডিতরা চিকিৎসাবিদ্যায় অনেক পারদর্শী ছিল। তাই আল্লাহ তাআলা ঈসা (.)-কে এমন সব ক্ষমতা দিলেন যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ঊর্ধ্বে, যাতে মানুষ বুঝতে পারে তিনি সত্যিই আল্লাহর প্রেরিত রসুল


ঈসা (.)-এর এই অলৌকিক কার্যাবলী দেখে অনেকেই ঈমান এনেছিল, আবার অনেকে একে জাদুকরী বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল

 

·         মাটির পাখি: তিনি মাটি দিয়ে পাখির অবয়ব তৈরি করে তাতে ফুঁ দিলে তা কীভাবে জীবন্ত হয়ে উড়ে যেত?

হজরত ঈসা (.)-এর এই অলৌকিক ঘটনাটি তাঁর অন্যতম প্রধান একটি মুজিজা, যা সরাসরি পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে এটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বনী ইসরাঈলদের জন্য এক অকাট্য প্রমাণ যে, তিনি সত্যই আল্লাহর প্রেরিত রাসুল

ঘটনাটি এবং এর ভেতরের অলৌকিকতা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরছি:

মাটির পাখি জীবনের সঞ্চার

বনী ইসরাঈলরা যখন তাঁর নবুয়ত নিয়ে সন্দেহ পোষণ করত এবং কঠিন সব প্রমাণ চাইত, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিশেষ কিছু ক্ষমতা দিয়েছিলেন। সূরা আল-ইমরান সূরা আল-মায়িদাহ-তে এই ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে

. পাখির আকৃতি তৈরি: হজরত ঈসা (.) প্রথমে কাদা মাটি দিয়ে একটি পাখির অবয়ব বা কাঠামো তৈরি করতেন। এটি দেখতে হুবহু একটি সাধারণ পাখির মতোই হতো, কিন্তু তাতে কোনো প্রাণ থাকত না

. ফুঁ প্রদান আল্লাহর হুকুম: এরপর তিনি সেই মাটির কাঠামোর ওপর নিজের পবিত্র মুখ দিয়ে ফুঁ দিতেন। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি ছিল 'বি-ইজনিল্লাহ' অর্থাৎ আল্লাহর হুকুমে। তিনি ফুঁ দেওয়ার সাথে সাথেই আল্লাহর অসীম কুদরতে সেই জড় মাটির কাঠামোটি রক্ত-মাংসে জীবিত হয়ে উঠত এবং ডানা ঝাপটিয়ে আসমানে উড়ে যেত

এই মুজিজার তাৎপর্য

এই অলৌকিক ঘটনার পেছনে গভীর কিছু উদ্দেশ্য ছিল:

  • সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার প্রকাশ: মানুষ মাটি দিয়ে পুতুল বানাতে পারে, কিন্তু তাতে জীবন দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। ঈসা (.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ দেখিয়েছেন যে, তিনি চাইলে জড় পদার্থকেও জীবন দান করতে পারেন
  • সন্দেহ দূর করা: যারা তাঁকে জাদুকর বা মিথ্যাবাদী ভাবত, তাদের সামনে এটি ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ কোনো জাদুর মাধ্যমে সাময়িকভাবে চোখের ভ্রম তৈরি করা সম্ভব হলেও, বাস্তব জীবন দান করা অসম্ভব
  • মৃতকে জীবিত করার ভূমিকা: এই মুজিজাটি মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মিয়েছিল যে, যিনি মাটির পাখিকে জীবন দিতে পারেন, তিনি আল্লাহর ইচ্ছায় কবরের মৃত মানুষকেও পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম

পবিত্র কুরআনের ভাষায়:

"...এবং যখন তুমি কাদা দিয়ে আমার আদেশে পাখির মতো আকৃতি তৈরি করতে এবং তাতে ফুঁ দিতে, ফলে তা আমার আদেশে পাখি হয়ে যেত..." (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১১০)


প্রকৃতি জীবনের ওপর ঈসা (.)-এর এই নিয়ন্ত্রণ তৎকালীন চিকিৎসাবিজ্ঞান মানুষের চিন্তাধারাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল

আল-কুরআন: এটি সর্বশেষ  সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে

পবিত্র আল-কুরআন হলো মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব, যা বিশ্বমানবতার মুক্তির গাইড বা জীবনবিধান হিসেবে নাজিল হয়েছে এর নাজিলের ঘটনা, গঠন এবং বিষয়বস্তু অত্যন্ত গভীর বিস্ময়কর

নিচে আপনার জিজ্ঞাসা অনুযায়ী বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

. নাজিলের ঘটনা (Revelation)

আল-কুরআন একবারে কিতাব আকারে নাজিল হয়নি, বরং দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে সমসাময়িক প্রয়োজন ঘটনার প্রেক্ষিতে অল্প অল্প করে নাজিল হয়েছে

  • শুরু: ৬১০ খ্রিস্টাব্দে রমজান মাসের শবে কদরে (লাইলাতুল কদর) মক্কার জাবালে নূরের হেরা গুহায় প্রথম ওহি নাজিল হয়
  • প্রথম বাণী: ফেরেশতা জিবরাঈল (.) এসে নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে লক্ষ্য করে সূরা আলাক-এর প্রথম পাঁচটি আয়াত পাঠ করেন: "ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক" (পড়ুন আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন)
  • সমাপ্তি: নবীজি (সা.)-এর ওফাতের অল্প কিছুদিন আগে বিদায় হজের সময় পবিত্র কুরআনের নাজিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়

. গঠন অধ্যায় (Structure)

কুরআন মাজিদের বিন্যাস গঠনশৈলী অত্যন্ত সুশৃঙ্খল:

  • সূরা: কুরআনে মোট ১১৪টি সূরা রয়েছে
  • আয়াত: এতে প্রায় ,৬৬৬টি (মতান্তরে ,২৩৬টি) আয়াত রয়েছে
  • পারা রুকু: পড়ার সুবিধার্থে একে ৩০টি পারায় এবং ৫৫৪টি রুকুতে ভাগ করা হয়েছে
  • মাক্কী মাদানী: হিজরতের আগে মক্কায় নাজিল হওয়া সূরাগুলোকে 'মাক্কী' (৮৬টি) এবং হিজরতের পর মদিনায় নাজিল হওয়া সূরাগুলোকে 'মাদানী' (২৮টি) বলা হয়

. মূল বিষয়বস্তু (Themes)

আল-কুরআনের বিষয়বস্তু বিশাল ব্যাপক। এর প্রধান দিকগুলো হলো:

  • তাওহীদ বা একত্ববাদ: আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়এটিই কুরআনের মূল ভিত্তি
  • আখিরাত বিচার দিবস: মৃত্যু পরবর্তী জীবন, জান্নাত জাহান্নামের বর্ণনা এবং কর্মফলের হিসাব
  • নবী-রাসুলদের ইতিহাস: আদম (.) থেকে শুরু করে মুসা (.), ঈসা (.) দাউদ (.)-সহ পূর্ববর্তী নবীদের কাহিনী বর্ণনা করে মানুষকে শিক্ষা দেওয়া
  • আইন জীবনবিধান (শরিয়ত): ইবাদত, ব্যবসা-বাণিজ্য, উত্তরাধিকার, বিয়ে-শাদি এবং সমাজ পরিচালনার নিয়মকানুন
  • বিজ্ঞান প্রকৃতি: আকাশমণ্ডল, পৃথিবী, ভ্রূণতত্ত্ব এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে অসংখ্য আয়াত, যা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ

. আল-কুরআনের অলৌকিকতা (Miracle)

কুরআন নিজেই একটি চ্যালেঞ্জ। এর ভাষাশৈলী সাহিত্যমান এতটাই উন্নত যে, আরবের বড় বড় কবিরা এর সমতুল্য একটি আয়াতও তৈরি করতে পারেনি। এছাড়া এটি পৃথিবীর একমাত্র কিতাব যা লক্ষ লক্ষ মানুষ হুবহু মুখস্থ (হাফেজ) রাখতে পারে


 @আব্দুল মুসরেফ খাঁন @কনকপুর 🌐@পাঁশকুড়া।।

 Click Icon For Follow me সাবস্ক্রাইব করুন



Click Topics and Read Thank you visit again 

Post a Comment

0 Comments