ভাই-বোনের মধ্যে সম্পত্তির সঠিক বন্টন: যা নিয়ে অনেক সময় পরিবারের ভাঙ্গন শুরু হয় সম্পর্কে কোরআনের বানী :
আসসালামুয়ালাইকুম মোমেনগন 🙋♂️🙋♂️🙋♂️ পবিত্র অল্ কোরাআন কেবল মাত্র ধর্ম গ্রন্থ নয়। বিশ্ব মানব কল্যাণে উৎকৃষ্ট আধ্যাত্মিক পরিপুরক গ্রন্থ। পবিত্র “রমজান মাসে অল্ কোরআনের সাথে” অর্থ না বুঝে কেবল মাত্র আরবি উচ্চারণ আর নয় চলুন আরবি উচ্চারণের পাশাপাশি বাংলা অর্থ বুঝার ও আমল করার চেষ্টা করি :
পরিবারে ভাই-বোনের মধ্যে সম্পত্তির সঠিক বণ্টন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামে উত্তরাধিকার আইন অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট, যা সরাসরি পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে নির্ধারিত। এই বিধান সঠিকভাবে মেনে চললে পারিবারিক কলহ ও বিভেদ এড়ানো সম্ভব।
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী সম্পত্তির বণ্টন নিয়ে প্রধান নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সন্তানদের মধ্যে বণ্টনের মূল নীতি
সন্তানদের মধ্যে উত্তরাধিকার বন্টন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নিসার ১১ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন:
আরবি আয়াত:
يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ ۖ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ
বাংলা অনুবাদ:
"আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক ছেলের অংশ দুই মেয়ের অংশের সমান।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১)
২. কেন এই পার্থক্য?
ইসলামি আইনবিদদের মতে, এই বণ্টনের পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে:
আর্থিক দায়ভার: ইসলামে পুরুষকে পরিবারের সম্পূর্ণ আর্থিক দায়িত্ব (ভরণপোষণ, মোহরানা ইত্যাদি) বহন করতে হয়।
নারীর অধিকার: নারীর প্রাপ্ত সম্পত্তি সম্পূর্ণ তার নিজের। বিয়ের আগে বাবা-ভাই এবং বিয়ের পরে স্বামী তার ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করেন, তাই তার প্রাপ্ত অংশটি তার ব্যক্তিগত সঞ্চয় হিসেবে থাকে।
৩. বোন যদি একা বা একাধিক হয়
একই আয়াতের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে:
যদি শুধু দুই বা ততোধিক মেয়ে থাকে (ছেলে না থাকে): তারা রেখে যাওয়া সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ ($2/3$) পাবে।
যদি কেবল একজন মেয়ে থাকে: সে মোট সম্পত্তির অর্ধেক ($1/2$) পাবে।
৪. বাবা-মায়ের হক
সন্তানরা যখন উত্তরাধিকারী হয়, তখন মৃত ব্যক্তির বাবা-মাও নির্দিষ্ট অংশ পান:
"মৃত ব্যক্তির যদি সন্তান থাকে, তবে তার পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ ($1/6$) রয়েছে।" (সূরা আন-নিসা: ১১)
৫. পারিবারিক শান্তি রক্ষায় করণীয়
সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ এড়াতে পবিত্র কুরআনের আরও কিছু মূলনীতি মনে রাখা জরুরি:
অসিয়ত ও ঋণ পরিশোধ: উত্তরাধিকার বণ্টনের আগে মৃত ব্যক্তির কোনো ঋণ থাকলে তা শোধ করতে হবে এবং তার কোনো বৈধ অসিয়ত থাকলে তা পূরণ করতে হবে।
আল্লাহর সীমারেখা: উত্তরাধিকারের এই আইনগুলোকে আল্লাহ তাআলা 'হুদুদুল্লাহ' বা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা বলেছেন। এই সীমা লঙ্ঘন করা কবিরা গুনাহ।
পারস্পরিক সদাচরণ: সূরা আল-বাকারার ১৮৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।"
উত্তরাধিকার বন্টনের (ফারায়েজ) হিসাবগুলো অনেক সময় বেশ জটিল হয়, বিশেষ করে যখন মৃত ব্যক্তির বাবা-মা, স্বামী/স্ত্রী এবং সন্তানরা জীবিত থাকেন।
সঠিক হিসাবটি বের করার জন্য আমার কাছে নিচের তথ্যগুলো থাকলে সুবিধা হবে:
১. মৃত ব্যক্তি কে? (বাবা নাকি মা?)
২. উত্তরাধিকারী কারা জীবিত আছেন?
কতজন ছেলে এবং কতজন মেয়ে?
মৃত ব্যক্তির স্ত্রী (যদি বাবা মারা যান) অথবা স্বামী (যদি মা মারা যান) জীবিত আছেন কি না?
মৃত ব্যক্তির বাবা বা মা (দাদা-দাদি/নানা-নানি) বেঁচে আছেন কি না?
৩. অন্য কোনো বিশেষ অবস্থা: যেমন মৃত ব্যক্তির কোনো ঋণ বা অসিয়ত আছে কি না।
আপনি যদি আমাকে একটি উদাহরণ দেন, যেমন: "বাবা মারা গেছেন, রেখে গেছেন ১ স্ত্রী, ২ ছেলে এবং ৩ মেয়ে"—তাহলে আমি কোরআনের বিধান অনুযায়ী কার কত অংশ (শতাংশ বা আনা-গণ্ডা হিসেবে) হবে, তা বুঝিয়ে বলতে পারব।
উপসংহার
পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে ইসলামের এই বিধানগুলো কেবল আইনি বিষয় নয়, বরং এটি একটি ইবাদত। ভাইদের উচিত বোনদের হক বুঝিয়ে দেওয়া এবং বোনদের উচিত তাদের প্রাপ্য সম্মানের সাথে গ্রহণ করা। অনেক সময় সামাজিক প্রথা বা লোভের কারণে বোনদের বঞ্চিত করা হয়, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তফসীর বা অর্থ প্রকাশে যদি কোনো ভ্রান্তি থাকে জানান আমার আগ্রহ জানার। ভালো লাগলে অবশ্য আমাকে ফ্লো করুন। লাইক-শেয়ার-কমেন্ট করুন পড়ার জন্য ধন্যবাদ। নিজে জানুন আমল করুন ও অপর কে শেয়ার করে জানানোর ব্যবস্থা করলে সাওয়াবের কাজ। আল্লাহ হাফিজ।। আব্দুল মুসরেফ খাঁন @কনকপুর 🌐পাঁশকুড়া।। মুসলিম সমাজের সমস্যা ও সমাধানে আল্লাহর বিধান প্রতি দিন 10 টি পোস্ট রমজান মাসের এই কটি দিন সবাই মিলে আমল করার চেষ্টা করি।। আল্লাহ আমাদের কে ইসলামের বিধানের মধ্যে কার্যকর থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন,,

0 Comments