ছোট পরিবার সম্পর্কে কোরআনের বানী :
আসসালামুয়ালাইকুম মোমেনগন 🙋♂️🙋♂️🙋♂️ পবিত্র অল্ কোরাআন কেবল মাত্র ধর্ম গ্রন্থ নয়। বিশ্ব মানব কল্যাণে উৎকৃষ্ট আধ্যাত্মিক পরিপুরক গ্রন্থ। পবিত্র “রমজান মাসে অল্ কোরআনের সাথে” অর্থ না বুঝে কেবল মাত্র আরবি উচ্চারণ আর নয় চলুন আরবি উচ্চারণের পাশাপাশি বাংলা অর্থ বুঝার ও আমল করার চেষ্টা করি :
পবিত্র কুরআনে সরাসরি "ছোট পরিবার" শব্দগুচ্ছটি আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞায় ব্যবহৃত হয়নি। তবে ইসলামে পরিমিতিবোধ, সামর্থ্যের ওপর গুরুত্বারোপ এবং সন্তানের উত্তম লালন-পালনের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা একটি পরিকল্পিত ও সুন্দর পরিবারের ধারণাকেই সমর্থন করে।
নিচে এ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক ও আয়াত উল্লেখ করা হলো:
১. সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপিয়ে না দেওয়া
একটি পরিবার কত বড় হবে, তা অনেক সময় লালন-পালনের সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন:
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
অর্থ: "আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কষ্ট দেন না।" (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬)
পরিবার গঠনের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য যে, পিতা-মাতা যেন ততটুকুই দায়িত্ব গ্রহণ করেন যা সুন্দরভাবে পালন করা সম্ভব।
২. সন্তানদের উত্তম লালন-পালন ও নিরাপত্তা
সন্তানদের সংখ্যাধিক্যের চেয়ে তাদের সঠিক শিক্ষা ও উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া ইসলামের অন্যতম মূলনীতি। আল্লাহ তাআলা দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তান হত্যা করতে নিষেধ করেছেন এবং রিযিকের নিশ্চয়তা দিয়েছেন:
وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ
অর্থ: "তোমরা দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না। আমিই তাদেরকে রিযিক দেই এবং তোমাদেরকেও।" (সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩১)
এই আয়াতটি যেমন জীবনের নিরাপত্তার কথা বলে, তেমনি পরোক্ষভাবে সন্তানকে এমন অবস্থায় না ফেলার ইঙ্গিত দেয় যেখানে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
৩. মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য (দুগ্ধপান)
একটি ছোট বা পরিকল্পিত পরিবারের অন্যতম সুবিধা হলো মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য। কুরআন শিশুকে দুই বছর পূর্ণ দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়, যা পরোক্ষভাবে পরবর্তী সন্তানের মধ্যে একটি সুস্থ বিরতি রাখার ইঙ্গিত দেয়:
وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ ۖ لِمَنْ أَرَادَ أَن يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ
অর্থ: "আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে, যদি কেউ দুধ পানের সময় পূর্ণ করতে চায়।" (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৩৩)
৪. পরিবারের জন্য দোয়া
কুরআনে একটি সুন্দর ও প্রশান্তিময় পরিবারের জন্য যে দোয়া শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, তা ছোট বা বড় সব পরিবারের জন্যই প্রযোজ্য:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
অর্থ: "হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদের মুত্তাকীদের আদর্শ কর।" (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪)
সারসংক্ষেপ
ইসলামে পরিবারের সংখ্যার চেয়ে পরিবারের গুণগত মান (Quality), সন্তানদের সুশিক্ষা (Tarbiyah) এবং হালাল রিযিকের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদি সামর্থ্য এবং সঠিক লালন-পালনের উদ্দেশ্যে কেউ ছোট পরিবার গঠন করে, তবে তা ইসলামের পরিমিতিবোধের শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিষয়টি আরও পরিষ্কার করার জন্য হাদিস এবং ইসলামি চিন্তাবিদদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতামত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সন্তানদের সুশিক্ষার (তরবিয়ত) গুরুত্ব
রাসূলুল্লাহ (সা.) পরিবারের সংখ্যার চেয়ে সন্তানের গুণগত মান এবং তাদের সঠিক লালন-পালনের ওপর অনেক বেশি জোর দিয়েছেন।
হাদিস: "কোনো পিতা তার সন্তানকে উত্তম শিষ্টাচার (আদব) অপেক্ষা অধিকতর শ্রেষ্ঠ কোনো দান প্রদান করতে পারে না।" (সুনানে তিরমিযী)
ব্যাখ্যা: অনেক বেশি সন্তান হওয়ার ফলে যদি তাদের মৌলিক অধিকার, দ্বীনি শিক্ষা এবং নৈতিক চরিত্র গঠন ব্যাহত হয়, তবে তা পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই পরিকল্পিত পরিবার এই হাদিসের মূলনীতির সাথে সংগতিপূর্ণ।
২. 'আজল' বা জন্ম বিরতি সম্পর্কে হাদিস
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে সাহাবীগণ পরিবারের আকার সীমিত রাখা বা সন্তানদের মাঝে বিরতি দেওয়ার জন্য 'আজল' (সহবাসের সময় বীর্য বাইরে ফেলা) পদ্ধতি অবলম্বন করতেন।
হাদিস: হযরত জাবের (রা.) বলেন, "আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে 'আজল' করতাম, এমতাবস্থায় যে কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল।" (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
ইসলামি চিন্তাবিদদের মত: ইমাম গাজ্জালী (রহ.) এবং আধুনিক যুগের অনেক বড় আলেম (যেমন শায়খ ইউসুফ আল-কারজাভী) এই হাদিস থেকে ইস্তিম্বাত (সিদ্ধান্ত গ্রহণ) করেছেন যে, যদি মায়ের স্বাস্থ্য রক্ষা, আর্থিক অসঙ্গতি বা সন্তানদের সুন্দরভাবে মানুষ করার উদ্দেশ্য থাকে, তবে পরিবার পরিকল্পনা বা জন্ম বিরতি গ্রহণ করা বৈধ।
৩. আধুনিক ইসলামি চিন্তাবিদদের ব্যাখ্যা
বর্তমানে ছোট বা অণু পরিবারের গুরুত্ব নিয়ে চিন্তাবিদগণ কয়েকটি প্রধান পয়েন্ট তুলে ধরেন:
মানসম্পন্ন প্রজন্ম (Quality over Quantity): আধুনিক স্কলারদের মতে, শুধু সংখ্যা বাড়ানো ইসলামের উদ্দেশ্য নয়। বরং এমন এক শক্তিশালী প্রজন্ম তৈরি করা উদ্দেশ্য, যারা শিক্ষায় ও চরিত্রে বলীয়ান হবে। অনেক বড় পরিবারে অনেক সময় প্রতিটি সন্তানের প্রতি সমান মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।
মায়ের স্বাস্থ্য ও অধিকার: ইসলাম নারীকে সম্মান দিয়েছে। ঘনঘন সন্তান ধারণ মায়ের স্বাস্থ্যের ওপর চরম ঝুঁকি তৈরি করলে ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী বিরতি নেওয়া শুধু বৈধ নয়, বরং প্রয়োজনীয়।
আর্থিক সচ্ছলতা ও হালাল রিযিক: যদিও আল্লাহ রিযিকদাতা, তবুও মানুষের দায়িত্ব হলো সামর্থ্য অনুযায়ী কর্ম করা। পরিবারের আকার যদি এমন হয় যা হালাল উপার্জনে চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং মানুষকে হারামের দিকে ধাবিত করে, তবে সেখানে পরিকল্পনা করা যুক্তিযুক্ত।
৪. ইমাম গাজ্জালী (রহ.)-এর দর্শন
তিনি তাঁর বিখ্যাত কিতাব 'এহ্ইয়াউ উলুমিদ্দীন'-এ পরিবার সীমিত রাখার কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো: "অধিক সন্তান-সন্ততির কারণে যেন পরিবারে অভাব-অনটন দেখা না দেয় এবং মানুষ যেন অবৈধ উপার্জনের দিকে ঝুঁকে না পড়ে।"
উপসংহার
ইসলাম মূলত 'পরিমিতিবোধ' (Moderation)-এর ধর্ম। ছোট পরিবার যদি সন্তানদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং স্ত্রীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়, তবে তা ইসলামের সুমহান আদর্শের পরিপন্থী নয়।তফসীর বা অর্থ প্রকাশে যদি কোনো ভ্রান্তি থাকে জানান আমার আগ্রহ জানার। ভালো লাগলে অবশ্য আমাকে ফ্লো করুন। লাইক-শেয়ার-কমেন্ট করুন পড়ার জন্য ধন্যবাদ। নিজে জানুন আমল করুন ও অপর কে শেয়ার করে জানানোর ব্যবস্থা করলে সাওয়াবের কাজ। আল্লাহ হাফিজ।। আব্দুল মুসরেফ খাঁন @কনকপুর 🌐পাঁশকুড়া।। মুসলিম সমাজের সমস্যা ও সমাধানে আল্লাহর বিধান প্রতি দিন 10 টি পোস্ট রমজান মাসের এই কটি দিন সবাই মিলে আমল করার চেষ্টা করি।। আল্লাহ আমাদের কে ইসলামের বিধানের মধ্যে কার্যকর থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন,,

0 Comments