বিস্ময় মুদ্রণ: প্রাণের নব স্পন্দন
কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
বিজ্ঞানের এই জয়যাত্রায় খুলল নতুন দ্বার,
মানুষের হাতেই হচ্ছে আজ প্রাণের অলঙ্কার।
অসুস্থ দেহে জাগছে আশা, কাটছে দীর্ঘ রাত,
অর্গান প্রিন্টিং আনছে বয়ে নতুন সুপ্রভাত।
থ্রি-ডি মেশিনের জাদুর ছোঁয়ায় কোষেরা পায় রূপ,
গড়ে ওঠে হৃৎপিণ্ড যেন নীরব শান্ত স্তূপ।
রক্তবাহী শিরা-ধমনী জটিল কারুকাজ,
সৃজনে বিজ্ঞান হার মানায় প্রকৃতিরও সাজ।
শরীরের ভাষা বুঝে নিয়ে চলে নকশা আঁকার কাজ,
জৈব কালিতে প্রাণ পায় অঙ্গ, ঘুচিয়ে মনের লাজ।
যকৃৎ কিংবা ফুসফুস আজ যন্ত্রে হচ্ছে তৈরি,
মৃত্যুর দূত হবে না আর জীবনের বড় বৈরী।
অপেক্ষা আর দীর্ঘ নয় রে অঙ্গ পাওয়ার তরে,
নতুন জীবন আসবে ফিরে প্রতিটি ঘরে ঘরে।
মানুষের কোষে মানুষেরই প্রাণ সাজিয়ে নেওয়া যায়,
অঙ্গদানের সংকট আজ মিটছে এ দুনিয়ায়।
প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনে জীবন দীর্ঘ হয়,
অসম্ভবও সম্ভব আজ—বিজ্ঞান দেয় জয়।
ধৈর্য ধরো হে মানবজাতি, বিজ্ঞানে রাখো আশ,
মুদ্রণযন্ত্রে লেখা হচ্ছে দীর্ঘ পরমায়ুর ইতিহাস।
আশার প্রদীপ জ্বলছে আজি ল্যাবরেটরির কোণে,
সুস্থ থাকার স্বপ্ন এখন জাগছে সবার মনে।
অকাল মৃত্যু হার মানবে এই কৌশলের কাছে,
নতুন দিনের আলোর দিশা বিজ্ঞানেই তো আছে।
প্রতিটি পরত, প্রতিটি স্তর নিখুঁত ছন্দে চলে,
বিজ্ঞানের জয়গান আজ সারা বিশ্ব বলে।
জীবকোষের এই বুনন গাঁথায় আধুনিকতার ছোঁয়া,
ভবিষ্যতের উজ্জ্বল পথে কাটছে আশঙ্কার ধোঁয়া।
প্রাণ স্পন্দিত হবেই আবার এই যন্ত্রেরই টানে,
অর্গান প্রিন্টিং অমর হবে মানুষের জয়গানে।
জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে বিজ্ঞান হলো সাথী,
জ্বলছে জ্ঞানের মশাল আজ—দূর করে সব রাতি।
ত্রিশ লাইনের এই কাব্যমালায় বিজ্ঞানের জয়ধ্বনি,
অঙ্গ মুদ্রণই আজ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রত্নমণি।
নতুন যুগের নতুন ভোরে প্রাণের জয়গান গাও,
বিজ্ঞানের এই আশীর্বাদে জীবন খুঁজে নাও।
0 Comments