অণু-যোদ্ধার জয়গান
কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
রক্তের স্রোতে নিঃশব্দে চলে বিজ্ঞানের এক সেনা,
যাদের চরণে নেই কোনো শব্দ, পথে নেই চেনা-জানা।
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ডিএনএ দিয়ে গড়া এক ন্যানো কায়া,
মরণব্যাধির আঁধার ঘুচাতে ছড়াবে আশার মায়া।
অণুবীক্ষণের নিচে যাদের রূপ দেখা মেলা ভার,
তারাই বদলে দিতে পারে আজ ক্যানসার চিকিৎসার হার।
শরীরের মাঝে লুকিয়ে যে ঘাতক করে বসবাস,
সুস্থ কোষের আড়ালে জমায় বিষাক্ত দীর্ঘশ্বাস।
এতদিন ধরে লড়াই চলেছে তলোয়ার দিয়ে রণ,
সুস্থ কোষও হারিয়েছে প্রাণ, ঘটেছে অকাল মরণ।
কিন্তু এবার স্মার্ট রোবট নামছে রণক্ষেত্রে,
বিজয় নিশান উড়বে এবার মানুষের জয়পত্রে।
শত্রুর ডেরা চিনে নেয় তারা অদ্ভুত কৌশলে,
রক্তের পথে ভেসে যায় তারা বিজ্ঞানের মহাবলে।
টিউমার আজ লুকিয়ে বাঁচবে এমন সাধ্য নাই,
ন্যানোবোট খুঁজে বের করবেই তারে—এই কথা বলে যাই।
সুস্থ কোষকে সালাম জানিয়ে পাশ কাটিয়ে যায়,
লক্ষ্য কেবল ঘাতক ব্যাধিটি, যমদূত আজ পায় ভয়।
ক্ষুদ্র দেহের রোবটগুলো যখন টিউমারে গিয়ে ঠেকে,
ওষুধের ঝুলি খুলে দেয় তারা ক্যানসার-বিষকে রুখে।
ফুসফুস আজ হাঁপিয়ে উঠে যে টিউমারটির ভারে,
স্মার্ট ন্যানোবোট আঘাত হানছে সে মরণ দেয়াল দ্বারে।
প্রাথমিক জয় এসেছে এবার, টিউমার হচ্ছে ছোট,
মানুষের মনে জাগছে ভরসা—"ভয় নেই, রুখে ওঠো"।
কে ভেবেছে তবে জিনের সুতায় রোবট হবে গঠন?
মৃত্যুর হাতছানি রুখে দেবে এই অদ্ভুত উদ্ভাবন।
বিজ্ঞানের এই জয়যাত্রা বয়ে আনুক নব আলো,
পৃথিবীর সব রোগাতুর প্রাণ থাকুক সুখে ও ভালো।
ক্যানসার নয়, জয়ী হবে আজ মানুষের মেধা আর প্রাণ,
অণু-যোদ্ধার হাতেই রচিত হোক আগামীর জয়গান।
0 Comments