লাল গ্রহের গুপ্ত ধারা
কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
মহাকাশ নীলে পাড়ি দিয়ে আজ মানুষের জয়গান,
মঙ্গলে মেলে প্রাণের ইশারা, জাগে নব কলতান।
ধূসর ধুলোয় ঢাকা ছিল দেশ, রূঢ় মরু সাহারা,
গিরিখাত তলে লুকানো রয়েছে রুপালি জলের ধারা।
ভ্যালিস ম্যারিনারিস গিরিখাত, গভীর গহন দেশ,
সেথায় ফুরায় বিজ্ঞানের আজ সকল সংশয় রেশ।
ইউরোপীয় আর নাসা মিলে আজ খুঁড়েছে জ্ঞানের খনি,
হাইড্রোজেনের সঙ্কেত বাজে—এক অদ্ভুত ধ্বনি।
শুষ্ক বালুর নিচে কি তবে বইছে ফল্গু নদী?
মানুষের তরে দুয়ার খুলল অনন্তকাল অবধি।
জমাট বরফ মিশে আছে কিবা খনিজ সিক্ত কাদা,
টুটবে এবার মহাকাশ তলে সকল কঠিন বাধা।
আয়ত্তে এল দূর অজানার আদিম লুকানো গুপ্তি,
বিজ্ঞানীদের মনে আজ তাই মেটে লালসার তৃপ্তি।
ভবিষ্যতের মানব বসতি গড়বে সেখানে ঘর,
লাল গ্রহ আর হবে না তো কভু মানুষের পরদেশ পর।
জলের খোঁজে দীর্ঘ প্রতীক্ষা মিটল যে আজ শেষে,
যান্ত্রিক দূত খুশির খবর পাঠাল স্বদেশে হেসে।
গিরিখাত মাঝে প্রাণের স্পন্দন দিবে কি তবেই দেখা?
মহাকাশ জয়ে মানুষের নাম স্বর্ণে হবে যে লেখা।
আগামী দিনে রকেট ছুটিবে লয়ে একরাশ আশা,
মঙ্গলে হবে মানব জাতির দ্বিতীয় ভালোবাসা।
জলের পরশে শস্য শ্যামল হবে কি পাথর ভূমি?
নক্ষত্র লোক চেয়ে আছে আজ ধরণীর পদ চুমি।
আবিষ্কারের এই মহামিছিলে বিজ্ঞান হলো ধন্য,
মঙ্গলে আজ জলের খোঁজটি মানুষেরই জন্য।
সূর্যের আলো পড়বে যখন বরফের সেই স্তরে,
মুক্তার মতো ঝিকমিকাবে মঙ্গলের অন্তরে।
অসাধ্য বলে নেই কিছু আর, মেধা দিলে শান,
বিশ্বজগৎ হাতের মুঠোয়—গাহে বিজ্ঞানের গান।
লাল গ্রহের ওই গভীর আঁধারে আশার আলোক শিখা,
জলের ছোঁয়ায় মুছবে ললাট হতে সকল দুঃখ লিখা।
0 Comments