কবিতা: জালের মাঝে সুরের জাল
কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
পিঙ্ক ফ্লয়েডের সুরের মূর্ছনা বেজে ওঠে মনে মনে,
নতুন মাকড়সা এল আজ সেই নামেরই সন্ধানে।
বিজ্ঞানীদল খুঁজে পেল এক অদ্ভুত নতুন প্রাণ,
প্রকৃতি তাকে দিয়েছে অসীম নিপুণতারই দান।
নামটি তার 'ফ্লয়েডমুরারিয়া', অদ্ভুত এক নাম,
পিঙ্ক ফ্লয়েডের ভক্ত তারা, জানাই যে সেলাম।
দেয়ালের কোণে অলস জালে লুকিয়ে সে যে থাকে,
শহরের যত মশা আর মাছি আপন মরণ ডাকে।
মশা-মাছিদের যম হয়ে সে জাল পেতেছে ঘরে,
রোগ ছড়ানোর ভয়টা কমেছে তার সে মায়ার ঘোরে।
রক মিউজিক আর বিজ্ঞানে আজ মিলল অটুট প্রীতি,
সুরের ছোঁয়ায় নতুন প্রজাতি গড়ল নব এক নীতি।
নেই তার মাঝে বিষের প্রকোপ, নেইকো অহেতুক ভয়,
পরিবেশে তার শান্ত উপস্থিতি শান্তি শুধু বয়।
পিঙ্ক ফ্লয়েডের গিটার যেন জালেতে কথা কয়,
ক্ষুদ্র এই প্রাণীটি আজ বিশ্ব করেছে জয়।
শহর জীবন ধুলোবালিতে যখন হয়ে যায় ম্লান,
প্রকৃতির এই ছোট্ট প্রহরী গায় বিজয়ের গান।
ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া মশার দাপট রুখতে সে যে বীর,
অদৃশ্য সব শত্রু মারতে লক্ষ্যটি তার স্থির।
প্রাচীন ব্যান্ডের অমর স্মৃতি আজ জ্যান্ত হয়ে হাসে,
নতুন গবেষণার জয়গান আজ সবার অন্তরে আসে।
আটটি পায়ে ছন্দ নিয়ে জাল বোনে সে ধীরে,
অদ্ভুত এক জগত যেন তার ওই ছোট শরীর ঘিরে।
শিল্প আর বিজ্ঞানের মাঝে যে নেই কোনো বিভেদ,
এই মাকড়সা দূর করে দিল সকল প্রকার খেদ।
রক গান আজ মাকড়সা হয়ে জালেতে বাঁধে সুর,
মশা-মাছির উপদ্রব হবে এবার অনেক দূর।
প্রকৃতি আর মানুষে মিলুক সুন্দরের এই বন্ধন,
বিজ্ঞান আনে নতুন বার্তা, ঘুচে যাক সব ক্রন্দন।
শেষ লাইনেও ধ্বনিত হোক সেই ব্যান্ডেরই তান,
পিঙ্ক ফ্লয়েড আর মাকড়সা—দুজনেই মহীয়ান।
0 Comments