জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭০ - বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ - তেলুগু - রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু

 


জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭০ - বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ - তেলুগু - রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু 

১৯৭০ সালের জ্ঞানপীঠ পুরস্কারের বিজয়ী ছিলেন বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ এবং তাঁর সেই অমর কীর্তি হলো তেলুগু মহাকাব্য 'রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু'।

তবে একটি ছোট মজার কাকতালীয় ব্যাপার খেয়াল করুন:

  • ১৯৬৯ সালে: জ্ঞানপীঠ পান ফিরাক গোরখপুরী (উর্দু)।

  • ১৯৭০ সালে: জ্ঞানপীঠ পান বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ (তেলুগু)।

অর্থাৎ, এই দুই বছর ভারতের দুই প্রান্তের দুই কিংবদন্তি সাহিত্যিক পর পর এই সম্মাননা পেয়েছিলেন।


রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু সম্পর্কে কিছু বিশেষ তথ্য:

১. অনুবাদ নয়, সৃজন: এটি বাল্মীকি রামায়ণের হুবহু অনুবাদ নয়। তিনি ছয়টি কাণ্ডকে নিজের মতো করে সাজিয়েছেন এবং এতে তেলুগু সংস্কৃতি ও নিজস্ব দার্শনিক চিন্তা যোগ করেছেন।

২. আধ্যাত্মিক গভীরতা: বইটির নাম 'কল্পবৃক্ষ' রাখার কারণ হলো, কবির মতে এই কাব্য পাঠ করলে পাঠকের সব আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা বা আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়।

৩. পাণ্ডিত্য: বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণকে তেলুগু সাহিত্যের 'কবি সম্রাট' বলা হয়। এই কাব্যে তিনি প্রাচীন ছন্দের (Prosody) এমন নিখুঁত ব্যবহার করেছেন যা আধুনিক যুগে বিরল।


একটি তুলনামূলক ছক (১৯৬৯ বনাম ১৯৭০):

বছর

সাহিত্যিকের নাম

ভাষা

প্রধান কাজ (পুরস্কারের জন্য বিবেচিত)

১৯৬৯

ফিরাক গোরখপুরী

উর্দু

গুল-এ-নাগমা (গজল ও রুবাই সংকলন)

১৯৭০

বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ

তেলুগু

রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু (মহাকাব্য)

বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণের 'রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু' (Ramayana Kalpavrukshamu) কেবল একটি বই নয়, এটি তেলুগু সাহিত্যের এক অনন্য কীর্তিস্তম্ভ। ১৯৭০ সালে এই কাব্যগ্রন্থের জন্যই তিনি প্রথম তেলুগু লেখক হিসেবে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন।

এই মহাকাব্যটি সম্পর্কে কিছু গভীরে যাওয়ার মতো তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

১. কেন একে 'কল্পবৃক্ষ' বলা হয়?

পুরাণে 'কল্পবৃক্ষ' হলো এমন এক গাছ যা সব ইচ্ছা পূরণ করে। বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ বিশ্বাস করতেন, বাল্মীকি রামায়ণের এই নতুন রূপায়ন পাঠ করলে পাঠকের কাব্যিক, আধ্যাত্মিক এবং দার্শনিক—সব ধরণের তৃষ্ণা মিটবে। তাই তিনি এর নামকরণ করেন 'শ্রীমদ রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু'।

২. এটি কি কেবল একটি অনুবাদ?

একেবারেই না। এটি বাল্মীকি রামায়ণের হুবহু অনুবাদ নয়, বরং একটি 'সৃজনশীল পুনর্নিমাণ'।

  • মৌলিকতা: মূল কাহিনী একই থাকলেও, বিশ্বনাথ এতে তেলুগু সংস্কৃতি, প্রথা এবং নিজস্ব দার্শনিক তত্ত্ব (অদ্বৈত বেদান্ত) যোগ করেছেন।

  • চরিত্রের বিবর্তন: তিনি রামের চরিত্রকে একাধারে ভগবান এবং এক আদর্শ 'মানবিক' নায়ক হিসেবে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

৩. কাব্যের গঠন

বাল্মীকি রামায়ণের মতো এটিও ছয়টি প্রধান খণ্ডে বা 'কাণ্ডে' বিভক্ত: ১. বাল কাণ্ড ২. অযোধ্যা কাণ্ড ৩. অরণ্য কাণ্ড ৪. কিষ্কিন্ধা কাণ্ড ৫. সুন্দরা কাণ্ড ৬. যুদ্ধ কাণ্ড

৪. ভাষা ও শৈলীর বৈশিষ্ট্য

  • পাণ্ডিত্যপূর্ণ ভাষা: এটি অত্যন্ত গম্ভীর এবং সংস্কৃতঘেঁষা তেলুগু ভাষায় লেখা। একে বলা হয় 'প্রবন্ধ' (Prabandha) শৈলীর আধুনিক সংস্করণ।

  • ছন্দের জাদুকরী: তিনি প্রাচীন তেলুগু ছন্দের (যেমন: চম্পকমালা, উৎপলমালা) এমন নিপুণ ব্যবহার করেছেন যে তাকে 'কবি সম্রাট' উপাধি দেওয়া হয়।

  • আধুনিকতা ও ঐতিহ্য: যদিও এটি প্রাচীন ধাঁচে লেখা, কিন্তু এর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ছিল অত্যন্ত আধুনিক।


৫. সমালোচকদের দৃষ্টিতে

অনেকে মনে করেন, ফিরাক গোরখপুরী (১৯৬৯) যেমন উর্দু কবিতায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিলেন, বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ তেমনি ১৯৭০ সালে তেলুগু মহাকাব্যিক ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁর এই কাজ তেলুগু ভাষাভাষী মানুষের কাছে এক 'আধুনিক পুরাণ' হিসেবে গণ্য হয়।

পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে  অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন email :lib.pbc@gmail.com





  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭০ - বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ - তেলুগু - রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭১ -বিষ্ণু দে -বাংলা- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭২ -রামধারী সিং 'দিনকর' - হিন্দি - উর্বশী  
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭৩- ডি আর বেন্দ্রে এবং গোপীনাথ মোহান্তি - কন্নড়/ওড়িয়া - নাকুতান্তি / মাটিমাতাল 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭৪ - বিষ্ণু সখারাম খান্দেকর - মারাঠি -যযাতি
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭৫ - পি ভি আকিলান - তামিল - চিত্রাপ্পাবাই 
  • মালয়ালম কবি জি শঙ্কর কুরুপ 
  • কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'গণদেবতা'-
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার যৌথভাবে দুজন সাহিত্যিককে প্রদান করা হয়েছিল—কন্নড় কবি কে. ভি. পুত্তাপ্পা (কুভেম্পু) এবং গুজরাতি কবি উমাশঙ্কর যোশী।
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৬৮ - সুমিত্রানন্দন পন্ত - হিন্দি -চিদাম্বরা 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার  -১৯৬৯ - ফিরাক গোরখপুরী - উর্দু - গুল-এ-নগমা
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭০ - বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ - তেলুগু - রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭৬ - আশাপূর্ণা দেবী- বাংলা - প্রথম প্রতিশ্রুতি 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৭ | কে শিবরাম করন্থ | কন্নড় | মুকাজ্জিয়া কনসুগলু |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৮ | এস এইচ ভি বাৎসায়ন | হিন্দি | কিতনি নাও মে কিতনি বার |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৯ | বীরেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্য | অসমীয়া | মৃত্যুঞ্জয় |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮০ | এস কে পোট্টেক্কাট | মালয়ালম | ওরু দেশথিন্তে কথা |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮১ | অমৃতা প্রীতম | পাঞ্জাবি | কাগজ তে ক্যানভাস |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮২ | মহাদেবী বর্মা | হিন্দি | সার্বিক অবদান (যামা - বিশেষ উল্লেখে) |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯১ | সুভাষ মুখোপাধ্যায় | বাংলা 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯৬ | মহাশ্বেতা দেবী | বাংলা 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯৯ | নির্মল ভার্মা এবং গুরুদয়াল সিং | হিন্দি/পাঞ্জাবি
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০০৫ | কুনওয়ার নারায়ণ | হিন্দি 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১০ | চন্দ্রশেখর কাম্বার | কন্নড় 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৬ | শঙ্খ ঘোষ | বাংলা 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৮ | অমিতাভ ঘোষ | ইংরেজি 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৯ | আক্কিথাম নাম্বুথিরি | মালয়ালম 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২১ | নীলমণি ফুকন | অসমীয়া 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২২ | দামোদর মৌজো | কোঙ্কানি 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২৩ | গুলজার এবং জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য | উর্দু/সংস্কৃত 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২৪ | বিনোদ কুমার শুক্ল | হিন্দি 

Post a Comment

0 Comments