মহাকাশে নতুন পদধ্বনি: ২০২৬

 



মহাকাশে নতুন পদধ্বনি: ২০২৬

কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন



অজানার টানে মানুষ ছুটেছে, নাসার নতুন অভিযান,

২০২৬-এর পাতায় লেখা গৌরবের জয়গান।

আর্টেমিস প্রকল্পে চাঁদে আবার পা রাখার আয়োজন,

কল্পনার সীমা ছাড়িয়ে শুরু মহাকাশ-বিচরণ।

চন্দ্রপৃষ্ঠে তুষার খোঁজে রোভার 'ভাইপার' ছোটে,

অন্ধকার গহ্বরে লুকানো রহস্যের ছবি ওঠে।

পোলারাইজেশন আর রেডার দিয়ে মাপা হয় হিমজল,

ভবিষ্যতের কলোনি গড়তে বিজ্ঞানীরা আজ চঞ্চল।

'ড্রাগনফ্লাই' ডানা মেলে টাইটানের সেই নীল মেঘে,

শনির উপগ্রহে প্রাণের চিহ্ন খোঁজে প্রবাল বেগে।

ইউরোপা ক্লিপার পাড়ি জমায় বৃহস্পতির সেই চাঁদে,

বরফের তলায় সমুদ্র কি কোনো প্রাণের মায়ায় ফাঁদে?

রোমান স্পেস টেলিস্কোপে হবে মহাবিশ্বের মাপ,

কৃষ্ণগহ্বর আর ডার্ক ম্যাটারের মুছে যাবে সব ছাপ।

শত শত কোটি আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথ হাসে,

নতুন লেন্সের তীক্ষ্ণ আলোয় সত্য নামুক পাশে।

মঙ্গল গ্রহে মার্স স্যাম্পল রিটার্ন হবে এবার শুরু,

মাটির নমুনা ফিরবে ধরণীতে, বুক কাঁপে দুরুদুরু।

প্রাচীন প্রাণের জীবাশ্ম কি লুকিয়ে আছে ঐ ধূলিতে?

মানুষ প্রস্তুত লাল গ্রহের গোপন দুয়ার খুলিতে।

গেটওয়ে স্টেশন তৈরি হচ্ছে চাঁদের কক্ষপথে,

মানুষ নামবে এবার ভিন্ন এক যাত্রার মহোরথে।

অ্যাস্টেরয়েড বা গ্রহাণু নিয়ে চলবে নতুন খেলা,

পৃথিবীর সুরক্ষা দিতে 'ডার্ট'-এর উত্তরসূরিদের মেলা।

সূর্যের খুব কাছে যাবে সোলার প্রোব সেই তেজে,

নক্ষত্ররাজার মুকুটে যেন সুরের ঝংকার বাজে।

পৃথিবীর মেঘ ও আবহাওয়া হবে নিখুঁত পর্যবেক্ষণে,

জলবায়ু পরিবর্তনের লড়ব আমরা সর্বক্ষণে।

গভীর মহাকাশে লেজার দিয়ে চলবে তথ্য আদানপ্রদান,

সেকেন্ডের ভগ্নাংশে পৌঁছাবে বিজ্ঞানের নব গান।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে চলবে নতুন গবেষণা,

শূন্য অভিকর্ষে ওষুধের মান হবে অনন্য প্রেরণা।

২০২৬ এক সন্ধিক্ষণ, এক নতুন যুগের শুরু,

মহাকাশ জয়ের নেশায় বিজ্ঞানীদের মন বড় দুরুদুরু।

নাসার হাত ধরে আমরা হব নক্ষত্রের সেই প্রতিবেশী,

অজানাকে জানার নেশায় মানুষ লড়ছে এখন বেশি।

সীমানাহীন ঐ নীলিমা আজ দিচ্ছে অবারিত ডাক,

মানুষের জয়গান সারা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ছড়িয়ে যাক।

চাঁদের ধুলো আর মঙ্গলের লাল আভার ঐ পথ ধরে,

নতুন ইতিহাস লেখা হবে নাসার এই শুভরেণু ঝরে।


Post a Comment

0 Comments