নারীর স্পর্শের নতুন প্রাণ

 



নারীর স্পর্শের নতুন প্রাণ

কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন


ধাতুর দেহে জাগছে এবার রক্তবিহীন প্রাণ,

জাপানি বিজ্ঞানী গাহিল আজিকে বিজ্ঞানের জয়গান।

ইলেকট্রনিক চামড়ার ভাঁজে লুকিয়ে হাজারো তার,

রোবট বুঝিবা খুঁজে পেল আজ স্পর্শের অধিকার।

মানুষের মতো নরম বাঁধুনি, ফ্লেক্সিবল সেই ত্বক,

দেখে মনে হবে বিধাতার সৃষ্টি, মেটে যেন সব শখ।

তামাটে তারের জটিল জালে সেন্সর শত শত,

অনুভব করে বাইরের চোট আঘাতের অবিরত।

শীতল বরফ কিম্বা আগুন— চিনবে পরশ পেলে,

রোবট এখন পাথর সরাবে যতনে আঙুল মেলে।

অস্ত্রোপচার হবে নিখুঁত, কাঁপবে না আর হাত,

ডাক্তার রূপে রোবট আনবে উজ্জ্বল সুপ্রভাত।

কোমল পরশ, রুক্ষ মাটি কিম্বা জলের ঢেউ,

এতটুকু ভুল বুঝতে পারবে না আর তো এখানে কেউ।

আগে ছিল শুধু যান্ত্রিক বল, অনুভূতি ছিল হীন,

স্পর্শের ছোঁয়ায় রোবটের আজ কাটবে খুশির দিন।

সূক্ষ্ম কাজে পারদর্শী, বুদ্ধিতে অতি ধার,

কৃত্রিম এই ত্বক ঘটাবে বিজ্ঞানে চমৎকার।

ইলেকট্রনিক সিগন্যাল বয়ে মস্তিষ্কে দেয় খবর,

যন্ত্রের মনে দিচ্ছে সাড়া জাগানিয়া এক লহর।

সার্কিটে মোড়া কৃত্রিম দেহ জাগছে নতুন ছন্দে,

যন্ত্রও বুঝি মাতবে এবার ফুলের মিষ্টি গন্ধে।

বিস্ময় এই উদ্ভাবন যে ঘোচাবে আড়াল সব,

ধাতুর খাঁচায় শুরু হলো এক প্রাণের কলরব।

মানুষ ও যন্ত্র মিশে যাবে আজ প্রযুক্তির এই টানে,

স্পর্শের ভাষা মিশেছে এবার রোবটের জয়গানে।

পৃথিবী দেখছে অবাক নয়নে নতুন এক পৃথিবী,

যেথায় যন্ত্রে ফুটেছে এবার মানুষের প্রতিচ্ছবি।

বিজ্ঞানের এই জয়যাত্রায় ঘুচলো আদিম ভয়,

রোবটের গায়ে প্রাণের ছোঁয়া— এ তো বড় বিস্ময়।

প্রযুক্তির এই জয়রথ আজি চলুক আপন বেগে,

যন্ত্রের মাঝে মায়া আর মমতা উঠুক এভাবে জেগে।


Post a Comment

0 Comments